প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগন যাকে ভোট দেবে সেই ক্ষমতায় আসবে, অনির্বাচিত সরকারের স্বপ্ন আর পূরণ হবেনা। তিনি বলেন, যারা অনির্বাচিত সরকার গঠন করে ক্ষমতায় আসতে চায় তারা দেশের সংবিধানে বিশ্বাস করেনা। আজ (বৃহস্পতিবার) একাদশ জাতীয় সংসদের ২১তম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন সংসদ নেতা।

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আজ (বৃহস্পতিবার) শুরু হয় একাদশ জাতীয় সংসদের ২১তম অধিবেশনের সমাপনী বৈঠক। শুরুতেই ৭টি স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন হয়।

পরে সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ভোটের অধিকার কেড়ে নিলে জনগন ক্ষমা করেনা। আওয়ামী লীগ মানুষের ভাতের ও ভোটের অধিকার নিশ্চিত করেছে।

শেখ হাসিনা বলেছেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া ৬ উপ-নির্বাচন নিয়ে কেউ কোনো প্রশ্ন তুলতে পারেনি। এসব নির্বাচনে প্রমাণ হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারে থাকলেও নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার সক্ষমতা রাখে।

শেখ হাসিনা বলেন, অনেকেই বলেন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে না। এখানে নাকি অনির্বাচিত সরকার আনতে হবে। আমার প্রশ্ন, এই যে ছয়টি উপ-নির্বাচন, এসব নির্বাচন সম্পর্কে কেউ তো একটি কথাও বলতে পারেনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের একজন মানুষও কি এই নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রশ্ন তুলতে পেরেছে? পারেনি। তবে কিছু লোক আছে, তাদের সব সময় উল্টো কথা বলতেই হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই নির্বাচন স্বচ্ছ হয়েছে, অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়েছে। এটা কি প্রমাণ করে না যে, নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবেই নির্বাচন করার সক্ষমতা রাখে? সেখানে সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করেনি, করেও না, করবেও না।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ ১৪ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে থাকায় উন্নয়ন আজ দৃশ্যমান হয়েছে। মানুষ স্বস্তিতে আছে। যারা অনির্বাচিত সরকার আনতে চায় তারা স্বাধীনতা ও সংবিধানে বিশ্বাস করে না। তবে দেশে অনির্বাচিত সরকারের স্বপ্ন আর পূরণ হবেনা।

সংসদ নেতা বলেন, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে সরকার সফল হয়েছে। সরকারের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে উল্লেখ করে এসবে বিভ্রান্ত না হতে জনগনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। আর, সংসদ সদস্যদেরকে জনগনের কাছে উন্নয়নের বার্তা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য পৌঁছে দিতে বলেন।

৫ই জানুয়ারি শুরু হয়ে ২৬ দিন ধরে চলে এই অধিবেশন। এই সময়ে ১০টি বিল পাস হয়েছে আর ৭টি বিল পাঠানো হয়েছে স্থায়ী কমিটিতে। রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের ওপর ৪০ ঘন্টা ২৭ মিনিটের আলোচনায় অংশ নেন ২০৯ জন সংসদ সদস্য। পরে রাষ্ট্রপতির বক্তব্য সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়।

একাত্তরের ২১শে ফেব্র“য়ারিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দেওয়া বঙ্গবন্ধুর ভাষণ উপস্থাপন করা হয় এই অধিবেশনে।

সবশেষে, অধিবেশনের সমাপনী সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতির আদেশ পড়ে শোনান স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।