বছরখানেক ধরেই বাংলাদেশ পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। এ বছরের শুরুর দিকে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের জন্য বেশ কয়েকটি পোশাকের ট্রায়ালও শুরু হয়েছিল। ট্রায়াল শেষ হয়েছে গত সেপ্টেম্বরে। শিগগিরই নতুন পোশাক পেতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা।
পুলিশ সদর দফতরের লজিস্টিক শাখা সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের শুরুর দিকে ছয়-সাতটি পোশাকের নমুনা নিয়ে ট্রায়াল শুরু হয়। ট্রায়ালে নতুন পোশাক আরামদায়ক কিনা, ডিউটির সময় এটি পরে থাকলে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে কোনো অস্বস্তি কাজ করে কিনা ও নতুন পোশাক দেশের পরিবেশের সঙ্গে মানানসই কিনা তা খতিয়ে দেখা হয়েছে।
এসব বিষয় নিশ্চিত হওয়ায় চারটি মিশ্র রঙয়ের পোশাক প্রাথমিকভাবে বাছাই করেছে পুলিশ সদর দফতর। ঠিক করা পোশাকগুলোর নমুনা সেপ্টেম্বরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখন মন্ত্রণালয় থেকে সবুজ সংকেত দিলেই মিশ্র রঙয়ের নতুন পোশাকে দেখা যাবে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যদের।
পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা যায়, বাহিনীর ইউনিফর্ম পরিবর্তন একটি নিয়মমাফিক কাজ। বেশ কয়েক বছর পরপরই বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে পুলিশের ইউনিফর্মে বিভিন্ন পরিবর্তন আনা হয়। যেমনটি হয়েছিল ২০০৪ সালে এবং ২০০৯ সালে। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলানোর জন্যও পরিবর্তন করা হয়। এছাড়া আবহাওয়াগত বিষয় মাথায় রেখেও বাহিনীর পুলিশের ইউনিফর্মে পরিবর্তন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
পুলিশের লজিস্টিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নতুন ইউনিফর্মে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টিকে জোর দেওয়া হচ্ছে তা হলো কাপড়ের মান। সেক্ষেত্রে উন্নত বিশ্বের ১০-১৫টি দেশের পুলিশের ইউনিফর্ম বিশ্লেষণ করেছে বাংলাদেশ। এসব দেশের পুলিশের কাপড়ের মান বিবেচনায় রেখেই নতুন ইউনিফর্মের মান নির্ধারণ করা হচ্ছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন ইউনিফর্মেও থাকছে হাফ ও ফুলহাতা শার্টের ব্যবস্থা। এক্ষেত্রে গরমকালে হবে হাফহাতা শার্ট, শীতকালে ফুলহাতা শার্ট। নতুন ইউনিফর্ম একরঙার বদলে হচ্ছে মিশ্র রঙের।
অনেক সময় অপরাধীরা মেট্রোপলিটন ও জেলা পুলিশের ইউনিফর্ম নকল করে পুলিশ পরিচয় দিয়ে নানা অপরাধ করে থাকে। এসব অভিযোগে অনেক অপরাধীকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ।
এ সমস্যা এড়ানোর জন্য পুলিশের নতুন ইউনিফর্ম মিশ্র রঙের হতে যাচ্ছে, যাতে কোনো অপরাধী সহজে নকল করতে না পারে। নতুন ইউনিফর্মে এমন কিছু বিশেষত্ব থাকবে যা খুব সহজেই নকল করা যাবে না।