আগামী দিনে দেশের শেয়ারবাজার ও অর্থনীতিতে ‘বৈপ্লবিক পরিবর্তন’ আসবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা চট্টগ্রামে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আমির খসরু বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির মূল মেরুদন্ড। এজন্য বন্দর আধুনিকায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরে বিনিয়োগের অনেক বড় ব্যাপার আছে, সেদিকে আমাদের যেতে হবে। পোর্টের কার্যক্রম আরও উন্নততর করতে হবে। বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বিনিয়োগের মাধ্যমেই তো বাণিজ্যিক রাজধানী হবে।’

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো কর্মসংস্থান। জনগণ যাতে অর্থনীতির সুফল পায়, সরকার সেই পথেই কাজ করবে। বন্দর আধুনিকায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি আর চলবে না। পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য সরকারের নানা পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী বাজেট কোনো গতানুগতিক বাজেট হবে না। অর্থনৈতিকভাবে দেশ উত্তোলনের পথে হাঁটবে। শেয়ারবাজার ও অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে।’

দেশের বর্তমান প্রধান সংকট হিসেবে কর্মসংস্থানের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ যেন অর্থনীতির সুফল পায়, সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে। ভবিষ্যতে পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি আর চলবে না। পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে আমাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী বাজেট কোনো গতানুগতিক বাজেট হবে না; বরং এটি হবে অর্থনৈতিক উত্তরণের মাইলফলক। এর ফলে শেয়ারবাজার ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

দীর্ঘদিন পর নির্বাচিত সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে চট্টগ্রামে ফেরার অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভালো লাগছে, আমরা একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশে ফিরে এসেছি। একটি নির্বাচিত সংসদ ও সরকার গঠিত হয়েছে। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা পূরণে আমরা সকলে মিলে কাজ করব।’

এর আগে সকালে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর মন্ত্রী উত্তর কাট্টলীর নাজির বাড়িতে মা-বাবার কবর জিয়ারত করেন। পরে কদমতলী মাদারবাড়ী জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন এবং বিকেলে নিজ বাসভবনে দলীয় নেতাকর্মী ও বন্দর সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। রাত ৮টা ২৫ মিনিটে তাঁর পুনরায় ঢাকার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম ত্যাগের কথা রয়েছে।