প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমান সরকারকে গণমাধ্যমবান্ধব সরকার হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এ দলটি যখনই সরকার গঠন করেছে গণমাধ্যমের উন্নয়নে কাজ করেছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা করোনা প্রাদুর্ভাবের সময় সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে দুঃস্থ, অস্বচ্ছল, অসহায়, অসুস্থ ও করোনায় মারা যাওয়া সাংবাদিক ও তাদের পরিবারকে আর্থিক অনুদান ও অন্যান্য সাহায্য দিয়েছি। সাংবাদিকদের জন্য নবম ওয়েজ বোর্ড গঠন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রেস ক্লাবগুলোর আধুনিকায়নের জন্য আর্থিক অনুদান দেওয়া হচ্ছে।’
সোমবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ‘বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। দিবসটি উপলক্ষে তিনি গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা জানান।
আওয়ামী লীগ যখনই সরকার গঠন করেছে গণমাধ্যমের উন্নয়নে কাজ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আমরাই প্রথম বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চালুর অনুমোদন দেই, যার মাধ্যমে অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত হয়। আওয়ামী লীগ সরকার সবসময় গণমাধ্যমবান্ধব সরকার। গণমাধ্যম এখন পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা গণমাধ্যম, তথ্য ও তথ্য-প্রযুক্তির বিকাশে ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়েছি। আওয়ামী লীগ সরকার সংবাদপত্রকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করেছে। বর্তমানে নিবন্ধিত দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক, ত্রৈমাসিক ও ষান্মাসিক মিলে মোট পত্রিকার সংখ্যা ৩ হাজার ১৩৭টি। আমাদের সময়ে বেসরকারি খাতে ৪৫টি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল, ১৪টি আইপিটিভি, ২৭টি এফএম রেডিও এবং ৩১টি কমিউনিটি রেডিওর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
গণমাধ্যমকে শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করতে এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়া খাতে শৃঙ্খলা ও দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘জাতীয় সম্প্রচার আইন’ প্রণয়ন করা হচ্ছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, গণমাধ্যম কর্মীদের বহুদিনের দাবি গণমাধ্যম কর্মী আইন করার উদ্যোগ নিয়ে তাদের অধিকার বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সৎ সাংবাদিকতায় উৎসাহিত করতে ২০১৮ সাল থেকে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের মধ্যে দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল পদক। আগামীতেও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা ও মানোন্নয়নে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল আরো অগ্রণী ভূমিকা রাখবে, এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রেসের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থার মান উন্নয়নের উদ্দেশ্যে যে প্রেস কাউন্সিল আইন প্রণয়ন করেছিলেন, তার স্বপ্নের ফসল বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল। তার নেতৃত্বে গঠিত সরকারের আমলে প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্ট ১৯৭৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। এই তারিখেই বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল দিবস উদযাপন করা হচ্ছে যা আনন্দের।
বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল দিবস উপলক্ষে নেওয়া সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন তিনি।
সূত্র : বাসস