জয় দিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেট সিরিজে শুভ সূচনা করেছে আফগানিস্তান। শারজা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম ওয়ানডে খেলায় বাংলাদেশ হেরেছে ৯২ রানে। আগে ব্যাট করে আফগানিস্তান ২৩৫ রানে অলআউট হয়। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৪৩ রান তুলতেই সব উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ম্যাচ সেরা হয়েছেন আগানিস্তানের এএম গাজানফার।

দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৮৪ রান করেন নবি। তাছাড়া ফিফটি পেয়েছেন শাহিদি। বাংলাদেশের হয়ে ৪টি করে উইকেট শিকার করেছেন তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান।

২৩৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের চতুর্থ ওভারে উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দলীয় ১২ রানে ৫ বলে মাত্র ৩ রান করে এ এম গজানফরের বলে আউট হন তানজিদ তামিম। এরপর ক্রিজে আসা অধিনায়ক শান্তকে সঙ্গে নিয়ে ব্যাট করতে থাকেন সৌম্য। শান্ত কিছুটা দেখেশুনে খেলতে থাকেন। অন্যদিকে রানের চাকা সচল রাখেন সৌম্য।

দুজনের পাল্টা আক্রমণে ব্যাকফুটে চলে যায় আফগানরা। তবে এরই মাঝে ওমরজাইকে পুল করতে গিয়ে ৩৩ রানে আউট হয়েছেন সৌম্য। এরপর ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন পেয়ে সেটার প্রতিদান ভালোভাবেই দিচ্ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। কিন্তু অল্প সময়ের ব্যবধানে সুইপ করতে গিয়ে তিনি ও শান্ত সাজঘরে ফেরেন। প্রথমে নবীকে ৪৭ রানে আউট হন শান্ত।

এরপর আর কেউই বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। শান্তর বিদায়ের পরই মিরাজ ফেরেন ২৮ রানে। এরপর তাসের ঘরের মতো ভাঙতে থাকে টাইগারদের উইকেট। শুধু আসা যাওয়া করেছেন। ১১ রানের মাঝে শেষ ৭ উইকেট হারিয়েছে টাইগাররা। শেষ পর্যন্ত ৩৪.৩ ওভারে ১৪৩ রানে অলআউট হয় টাইগাররা। আফগানদের হয়ে বল সর্বোচ্চ ৬ উইকেট নেন গজনফর।

টস হেরে ফিল্ডিংয়ে নামা বাংলাদেশকে শুরুতেই উইকেট এনে দেন তাসকিন আহমেদ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভার রহমানউল্লাহ গুরবাজ তার বলে ক্যাচ দেন উইকেটের পেছনে। তাসকিন বোলিংয়ের শুরুটা করেছিলেন শরিফুল ইসলামের সঙ্গে।

অষ্টম ওভারে গিয়ে তাসকিনকে সরিয়ে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত নিয়ে আসেন মোস্তাফিজুর রহমানকে। বোলিংয়ে এসে দ্বিতীয় বলেই উইকেট পেয়ে যান মোস্তাফিজ। ১২ বলে ২ রান করা রহমত শাহ ক্যাচ দেন মুশফিকের হাতে।

এখানেই থামেননি মোস্তাফিজ, নিজের পরের ওভারে দুই উইকেট তুলে নেন তিনি। প্রথমে ফেরান থিতু হতে থাকা সাদিকুল্লাহ আতালকে। ৩০ বলে ২১ রান করা এই ব্যাটার হন এলবিডব্লিউ। দুই বল পর আজমতউল্লাহ ওমরজাই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন।

দুই ওভারে মোস্তাফিজ তিন উইকেট এনে দেওয়ার পর কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে আফগানিস্তান। গুলবাদিন নাইব ও হাশমাতুল্লাহ শহিদী ৬১ বলে ৩৬ রানের জুটি গড়েন। এই জুটি ভেঙে দেন তাসকিন আহমেদ। তার বলে শর্ট মিডউইকেটে ক্যাচ তুলে দেন ৩২ বলে ২২ রান করা নাইব।

৭১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে অনেকটাই চাপে পড়ে যায় আফগানিস্তান। কিন্তু এবার শক্ত হাতেই দলের হাল ধরেন শহিদী ও মোহাম্মদ নবী। এই দুজনের জুটিতে এগিয়ে যেতে থাকে আফগানিস্তান। দুজনেই তুলে নেন হাফ সেঞ্চুরি।

জুটির সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর এটি ভাঙেন মোস্তাফিজুর রহমান। ১২২ বলে ১০৪ রানের এই জুটি ভাঙেন তিনি শহিদীকে বোল্ড করে। ৯২ বলে ৫২ রান করে ফেরেন হাশমাতুল্লাহ। ঝড়ো ব্যাটিং শুরুর আগেই রশিদ খানকে ফিরিয়ে দেন মোস্তাফিজ।

তাকে ফিরিয়ে নিজের প্রথম উইকেট পান শরিফুল। ১১ বলে ১০ রান করেন রশিদ। কিন্তু কিছুতেই যেন থামানো যাচ্ছিল না মোহাম্মদ নবীকে। তাকে ৪৮তম ওভারে গিয়ে আউট করেন তাসকিন। তার বলে তানজিদ তামিমের হাতে ক্যাচ দেন নবী। এর আগে ৪টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৭৯ বলে ৮৪ রান আসে তার ব্যাট থেকে।

কিন্তু শেষদিকে আফগানিস্তানের রান আরেকটু বাড়িয়ে দেন নাগাইলি খারোতে। ২৮ বলে ২৭ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান দুজনেই চার উইকেট করে পান। তবুও লড়াই করার মতো পুঁজি পায় আফগানিস্তান।