তিন ম্যাচ ওয়ানডেতে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানিস্তানকে ৬৮ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে সমতা ফেরাল বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২৫২ রান সংগ্রহ গড়ে টাইগাররা। ২৫৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে ১৮৪ রানে গুটিয়ে যায় আফগানরা। শনিবার (৯ নভেম্বর) শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে এই জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ ২৮ রানেই হারিয়ে ফেলে প্রথম উইকেট। ভালো শুরুর ইঙ্গিত দেওয়া তানজিদ হাসান ১৭ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ২২ রান করে ক্যাচ দেন আল্লাহ মোহাম্মদ গজানফরের বলে। এরপর সৌম্য সরকারের সঙ্গে জুটি গড়েন অধিনায়ক শান্ত।
৯৩ বলে ৭১ রানের এই জুটি ভাঙে সৌম্য যখন রশিদ খানের বলে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়েন। ২ চার ও সমান ছক্কায় ৪৯ বলে ৩৫ রান করে আউট হন তিনি। রিপ্লেতে অবশ্য দেখা গেছে, রিভিউ নিলে বেঁচে যেতেন সৌম্য; বল পড়েছিল লেগ স্টাম্পের বাইরে।
এরপর শান্তর সঙ্গী হন সহ-অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। তাদের জুটিও পঞ্চাশ ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু হুট করে ৩২ রানের ব্যবধানে চার উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ।
শুরুটা হয় মেহেদী হাসান মিরাজকে দিয়ে। ৩৩ বল খেলেও কোনো বাউন্ডারি হাঁকাননি তিনি, করেন ২২ রান। রশিদ খানের বলে বোল্ড হয়ে যান মিরাজ। এরপর কিছুটা ধীর ইনিংস খেলা শান্তও বিদায় নেন। নাগাইলিয়া খারোটির বলে ক্যাচ তুলে দেন তিনি নবীর হাতে। এর আগে ১১৯ বলে করেন ৭৬ রান।
এ দুজনের বিদায়ের পর তাওহীদ হৃদয় ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও ফেরেন দ্রুত। ১৬ বলে ১১ রানে হৃদয় ও ৯ বলে ৩ রানে আউট হন রিয়াদ। তাদের দুজনের বিদায়ের পর কিছুটা হাল ধরেন অভিষিক্ত জাকের আলি অনিক ও নাসুম আহমেদ।
৪১ বলে ৪৬ রানের জুটি ছিল এই দুজনের। ১ চার ও ২ ছক্কায় ২৭ বলে ৩৭ রান করে আউট হন গজানফার। ১ চার ও ৩ ছক্কায় ২৭ বলে ৩৭ রানে অপরাজিত থাকেন প্রথম ওয়ানডে খেলতে নামা জাকের আলি।
রান তাড়ায় নেমে আফগানদের হয়ে ওপেনিংয়ে নামেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও সেদিকউল্লাহ আতাল। তবে শুরুতেই এই জুটিকে থামান তাসকিন আহমেদ। তাসকিনের বলে স্লিপে সৌম্য সরকারের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান রহমানউল্লাহ গুরবাজ। তার বিদায়ে ১৮ রানে প্রথম উইকেট হারায় আফগানরা।
১৮ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর জুটি গড়েন সেদিকউল্লাহ আতাল ও রহমাত শাহ। এই জুটিতে ভর করে ঘুরে দাঁড়াতে থাকে আফগানরা। ক্রমেই ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠছিল এই জুটি। অবশেষে এই জুটিকে থামান নাসুম আহমেদ। নাসুমের বলে মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফিরে যান সেদিকউল্লাহ আতাল। তার বিদায়ে ভাঙে ৫২ রানের জুটি।
সেদিকউল্লাহ আতালের বিদায়ের পর হাশমাতউল্লাহ শাহিদিকে নিয়ে জুটি গড়েন রহমাত শাহ। দেখেশুনে খেলতে থাকেন এই দুই ব্যাটার। দলীয় ৮৭ রানে দ্বিতীয় বারের মতো জীবন পান রহমাত শাহ। ইচ্ছে করেই বলটি স্টাম্পের অনেক বাইরে দিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ। ফাঁদটা কাজেও লেগেছিল। রহমত শাহ ক্রিজ থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু বল তাঁকে ফাঁকি দিয়ে চলে যায় উইকেটকিপার জাকের আলীর হাতে। জাকের অবশ্য অনেকটাই দেরি করে ফেলেন। তিনি স্টাম্প ভাঙার আগেই নিরাপদে ক্রিজে পৌঁছে যান রহমত। এর আগে মিরাজের বলে এই রহমতের ক্যাচ ফেলেছিলেন জাকের। সেই সময় রহমত ছিলেন ১১ রানে, এবার ‘জীবন’ পান ৩০ রানে।
আর জীবন পেয়েই ওযানডে ক্যারিয়ারের ৩০তম অর্ধশতক তুলে নেন রহমাত শাহ। ক্রমেই বাংলাদেশের জন্য ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠছিল এই জুটি। অবশেষে এই জুটিকে থামিয়ে বাংলাদেশকে স্বস্তি এনে দেন পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। মুস্তাফিজের বলে ফাইন লেগে শরিফুলের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান হাশমাতউল্লাহ শাহিদি। আউট হওয়ার আগে করেন ৪০ বলে ১৭ রান। তার বিদায়ে ভাঙে ৪৮ রানের জুটি।
মুস্তাফিজের পরের ওভারেই আফগান শিবিরে জোড়া আঘাত হানেন নাসুম আহমেদ। নাসুমের বলে বোল্ড হয়ে শূন্য রানে করেই প্যাভিলিয়নের ফিরে যান আজমাতউল্লাহ ওমারজাই। আজমাতউল্লাহ ওমারজাইয়ের বিদায়ের পর একই ওভারে নাসুমের বলে রান আউটের শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান অর্ধশতক তুলে নেওয়া রহমাত শাহ। এই তিন ব্যাটারের দ্রুত বিদায়ে ১১৯ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে আফগানরা।
১১৯ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর জুটি গড়েন মোহাম্মাদ নবি ও গুলবাদিন নাইব। জুটি গড়েই বাংলাদেশি বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকেন তারা। এই জুটি মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছিল বাংলাদেশের। অবশেষে এই জুটিকে থামান পেসার শরিফুল ইসলাম।
শরিফুলের বলে তাওহীদ হৃদয়ের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফিরে যান গুলবাদিন নাইব। আউট হওয়ার আগে করেন ২৫ বলে ২৬ রান। তার বিদায়ে ভাঙে ৪৪ রানের জুটি।
গুলবাদিন নাইবের বিদায়ের পর সাজঘরে ফিরে যান মোহাম্মাদ নবিও। মিরাজের বলে বোল্ড হয়ে প্যাভিলিযনের পথ ধরেন তিনি। তার বিদায়ে ১৬৫ রানে ৭ উইকেট হারায় আফগানরা।
নবির বিদায়ের পর রশিদ খান দলের হাল ধরার চেষ্টা করলেও তাকে বেশিদূর এগাতে দেননি মুস্তাফিজ। মুস্তাফিজের বলে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান তিনি। তার বিদায়ের পর ১৮৪ রানেই থামে আফগানদের ইনিংস। যার ফলে বাংলাদেশ তুলে নিয়েছে ৬৮ রানের জয়।