ভারি তুষারপাত ও বরফাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে ইউরোপজুড়ে ব্যাপক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। তুষারপাতের কারণে অন্তত ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ফ্রান্সের দুটি পৃথক অঞ্চলে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আর বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার রাজধানী সারায়েভোতে তুষারের ভারে গাছ ভেঙে পড়ে এক নারী নিহত হয়েছেন।

ইউরোপজুড়ে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে প্যারিস ও আমস্টারডামের বিমানবন্দরগুলোতে হাজারো যাত্রী আটকা পড়েছেন। এই ভোগান্তি আরও কয়েকদিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ফ্রান্সের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় লঁদ এলাকায় বরফের কারণে দুটি দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হন। প্যারিস অঞ্চলেও আলাদা দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান আরও দুজন। ফ্রান্সে আরও তুষারপাতের আশঙ্কায় জনগণকে অপ্রয়োজনে বাইরে না বের হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। রানওয়ে থেকে তুষার পরিষ্কার করতে বুধবার সকাল কয়েক ঘণ্টার জন্য রুয়াসি-শার্ল দ্য গল বিমানবন্দরের ৪০ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল করা হবে। একই সময়ে অরলি বিমানবন্দর তাদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ ফ্লাইট বাতিলের পরিকল্পনা করেছে।

এদিকে নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামের স্কিপহোল বিমানবন্দরে ৪০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বরফ গলানোর তরলের ঘাটতি ও চরম আবহাওয়ার কারণে ডাচ এয়ারলাইন কেএলএম সবচেয়ে বেশি ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। তুষারপাতের কারণে রেল যোগাযোগেও মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটেছে।

তীব্র তুষারপাতের কারণে রেল যোগাযোগেও বিঘ্ন ঘটে। মঙ্গলবার সকালে আইটি বিভ্রাটের কারণে নেদারল্যান্ডসে সব ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। সকাল ৯টার পর কিছু ট্রেন চলাচল শুরু হলেও দিনভর সমস্যা অব্যাহত থাকে। আমস্টারডাম থেকে প্যারিসগামী ইউরোস্টার ট্রেনগুলো হয় বাতিল করা হয়, নয়তো বিলম্বে চলাচল করে।