যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের অবসান ঘটাতে ১০ দফা শান্তি প্রস্তাব উত্থাপন করেছে ইরান। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রাথমিকভাবে এই প্রস্তাবগুলোকে আলোচনার ‘ভিত্তি’ হিসেবে গ্রহণ করার ঘোষণা দিলেও, সমর বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন এই শর্তগুলো মেনে নেওয়া ওয়াশিংটনের জন্য হবে এক চরম অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। এই প্রতিবেদনে ইরানের ১০ দফার প্রতিটি দিক এবং এর সুদূরপ্রসারী আন্তর্জাতিক প্রভাবের একটি বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো।
ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরপরই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির জারি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ট্রাম্প ইরানের ১০ দফা পরিকল্পনাকে আলোচনার রূপরেখা হিসেবে গ্রহণ করতে রাজি হয়েছেন। এটি ইরানেরই বিজয়।
তিনি আরও বলেছেন, দুই সপ্তাহের জন্য, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা যথাযথভাবে বিবেচনা করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত সম্ভব হবে।
সংক্ষেপে ইরানের ১০ দফা পরিকল্পনা:
১. যুক্তরাষ্ট্রকে নীতিগতভাবে অনাক্রমণ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে
২. হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখা
৩. ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া
৪. সব প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
৫. সব মধ্যবর্তী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
৬. জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সব প্রস্তাব বাতিল
৭. আইএইএ বোর্ড অব গভর্নরস-এর সব প্রস্তাব বাতিল
৮. ইরানের ওপর চাপানো ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান
৯. এই অঞ্চল থেকে মার্কিন যুদ্ধ বাহিনীর প্রত্যাহার
১০. লেবাননের বীরত্বপূর্ণ ইসলামি প্রতিরোধসহ সব রণাঙ্গনে যুদ্ধ বন্ধ করা











