ইরানের রাজধানী তেহরানে গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছেন ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়া। এর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
এ হত্যাকাণ্ডের জন্য ইসরাইলকেই দায়ী করছে ইরান ও হামাস। যদিও এখনও কোনো মন্তব্য করেনি ইসরাইল। তবে লেবাননে হিজবুল্লার এক কমান্ডারসহ তিনজনকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে ইসরাইলি বাহিনী। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশে হামলা চালিয়ে ইসরাইল গাজার যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করার ইঙ্গিত দিলো বলেই অভিমত বিশ্লেষকদের।
আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য। ইরানে সফররত অবস্থায় গুপ্ত হামলায় নিহত হয়েছেন ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের শীর্ষ নেতা ইসমাইল হানিয়া। ইরানের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মঙ্গলবার তেহরান গিয়েছিলেন তিনি। বুধবার সকালে তার আবাসস্থলে গুপ্ত হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় এক দেহরক্ষীসহ ইসমাইল হানিয়া নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস -আইআরজিসি।
এই হত্যাকাণ্ড কীভাবে সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য দেয়নি ইরান। তবে এজন্য ইসরাইলকে দায়ী করছে ইরান ও হামাস। এছাড়া তুরস্ক ও রাশিয়াও ইসমাইল হানিয়ার মৃত্যুর জন্য ইসরাইলকে দায়ী করে নিন্দা জানিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি ইসরাইল।
এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ইসরাইলের হাত থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরাও। তারা বলছেন, গুপ্তহত্যা ইসরাইলের পুরোনো কৌশল এবং হামাসের নেতাদের শেষ করার ঘোষণাও দিয়ে রেখেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী। ইরানে অবস্থানরত ফিলিস্তিনি নেতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে ইসরাইল গাজার যুদ্ধকে আঞ্চলিক সহিংসতায় রূপান্তরিত করছে বলে আশংকা জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে, লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এ ঘটনায় হিজবুল্লাহর সামরিক উপদেষ্টাসহ ৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৭৪ জন। ইসরাইল জানিয়েছে, গোলান মালভূমিতে বিমান হামলায় ১২জন নিহতের ঘটনার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে এ হামলা। এর ফলে সর্বাত্মক যুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে এই দুই দেশেও।
অধিকৃত গাজাতেও অব্যাহত রয়েছে ইসরাইলি নৃশংসতা। ৯দিন ধরে বর্বর অভিযান চালিয়ে খান ইউনিস ছেড়েছে ইসরাইলি বাহিনী। এরপর সেখানকার ধ্বংসস্তুপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে আরও ৪২ মরদেহ। এ নিয়ে গত আটদিনে অঞ্চলটিতে প্রাণ হারিয়েছে আড়াইশ’ ফিলিস্তিনি। আহত আরও অনেকে।