যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের শীর্ষ সন্ত্রাসবাদবিরোধী উপদেষ্টা জো কেন্ট ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা করে পদত্যাগ করেছেন। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে চলমান সংঘাত নিয়ে প্রকাশ্যে পদত্যাগ করা প্রশাসনের সবচেয়ে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা হিসেবে তিনি আলোচনায় এসেছেন।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত পদত্যাগপত্রে জো কেন্ট জানান, তিনি নৈতিকভাবে এই যুদ্ধকে সমর্থন করতে পারছেন না। বর্তমানে ইরানের সঙ্গে চলমান এই যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে।

পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেন, ইরান আমাদের দেশের জন্য কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি ছিল না। স্পষ্টতই এই যুদ্ধ শুরু হয়েছে ইসরায়েলের চাপ এবং যুক্তরাষ্ট্রে তাদের প্রভাবশালী লবির কারণে।

এর আগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলাকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে গত ১৩ মার্চ রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক উপদেষ্টার পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন সামিরাহ মুনসি। পাশাপাশি ফিলিস্তিনপন্থি বোর্ড সদস্য ক্যারি প্রিজান বোলারের অপসারণের প্রতিবাদও করেছেন এই সাবেক উপদেষ্টা।

এদিকে জো কেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, যা অফিস অব দ্য ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের অধীনে পরিচালিত হয়। তিনি প্রেসিডেন্টের প্রধান সন্ত্রাসবাদবিরোধী উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছেন।

দীর্ঘ সামরিক জীবনে কেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে ২০ বছরের বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে ১১ বার যুদ্ধ মিশনে অংশ নেন।

দীর্ঘ সামরিক জীবনে কেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে ২০ বছরের বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে ১১ বার যুদ্ধ মিশনে অংশ নেন।ব্যক্তিগত জীবনের একটি গভীর ট্র্যাজেডিও তার এই সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে- তার স্ত্রী শ্যানন কেন্ট ২০১৯ সালে সিরিয়ায় দায়িত্ব পালনকালে এক আত্মঘাতী হামলায় নিহত হন।

পদত্যাগপত্রে কেন্ট আরও বলেন, একজন সৈনিক হিসেবে ১১ বার যুদ্ধে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা এবং স্ত্রীকে হারানোর বেদনা থেকে আমি এমন একটি যুদ্ধে নতুন প্রজন্মকে পাঠানোর পক্ষে নই, যা আমেরিকার জনগণের কোনো উপকারে আসে না এবং যার মূল্য হিসেবে প্রাণহানি কোনোভাবেই ন্যায্য নয়।বিশ্লেষকদের মতে, এই পদত্যাগ ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।