লেবাননে বোমাবর্ষণ অব্যাহত থাকলে ইসরায়েলে হামলার হুমকি দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। পাশাপাশি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘রক্ত ও ঘৃণায় অন্ধ’ বলে অভিযুক্ত করে বলেছেন, “আক্রমণ না করার কোনও কারণ নেই।” খবর টেলিগ্রাফের।
রোববার (১২ এপ্রিল) ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল এশিয়া-পলিটিক্যাল পার্টিস কনফারেন্সে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, অতীতে যেমন কারাবাখ ও লিবিয়ায় তুরস্কের সামরিক হস্তক্ষেপ সফল হয়েছিল, প্রয়োজনে ইসরায়েলের বিরুদ্ধেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
তার জবাবে ইসরায়েলি নেতাদের পাল্টা আক্রমণাত্মক মন্তব্যে দুই দেশের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে উঠেছে। আর এটি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট বলছে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান রবিবার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিন ও লেবাননে নৃশংসতা চালানোর অভিযোগ করেছেন এবং প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, অতীতে কারাবাখ ও লিবিয়ায় যেমন হস্তক্ষেপ করা হয়েছিল, তেমন পদক্ষেপ ইসরায়েলের বিরুদ্ধেও নেয়া হতে পারে।
ইস্তাম্বুলে ইন্টারন্যাশনাল এশিয়া-পলিটিক্যাল পার্টিস কনফারেন্সে বক্তব্য দিতে গিয়ে এরদোয়ান বলেন, “রক্তে রঞ্জিত এই গণহত্যার নেটওয়ার্ক কোনও নিয়ম-নীতি মানছে না, মানবিক মূল্যবোধ উপেক্ষা করে নিরীহ শিশু, নারী ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করে চলেছে।”
তিনি আরও বলেন, “যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলের হামলায় লেবাননের ১২ লাখ মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।”
এরদোয়ান ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘বর্বরতা’ বলে উল্লেখ করেন এবং ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে পাস হওয়া একটি বিতর্কিত আইনের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “এটি মূলত ফিলিস্তিনি বন্দিদের লক্ষ্য করেই করা হয়েছে।”
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এরদোয়ান আরও কঠোর অবস্থান নেন। তিনি বলেন, “ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে ইসরায়েল যা করছে, তা ঠেকাতে আমাদের শক্তিশালী হতে হবে। আমরা যেমন কারাবাখে গিয়েছি, যেমন লিবিয়ায় গিয়েছি, তেমনই তাদের বিরুদ্ধেও যাব। আমাদের সামনে কোনও বাধা নেই- শুধু শক্তিশালী হতে হবে।”
এরদোয়ানের এই বক্তব্যকে ফিলিস্তিনি অধিকার রক্ষায় তুরস্কের অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে গত শুক্রবার তুরস্কের একটি আদালত নেতানিয়াহুসহ ৩৫ জন ইসরায়েলি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। এর মধ্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এবং জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরও রয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ‘সুমুদ’ গাজা বহরে নৌ-অভিযান চালিয়ে আন্তর্জাতিক জলসীমায় বেসামরিক লোকদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানো হয়েছিল।
এই ঘটনায় গ্রেটা থুনবার্গসহ বেশ কয়েকজন কর্মীকে আটক করা হয়েছিল। এই ঘটনার পর তুরস্ক নেতানিয়াহুসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার সিদ্ধান্ত নেয়।
এই অভিযোগের জেরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। তুরস্ক বলছে, তারা আন্তর্জাতিক আইন রক্ষার জন্য এই পদক্ষেপ নিয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি নেতারা এরদোয়ানকে ‘কাগুজে বাঘ’ বলে অভিহিত করেছেন এবং তাকে ভণ্ডামির অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন।
গত শনিবার সামাজিক মাধ্যমে পৃথক পোস্টে নেতানিয়াহু, কাটজ ও বেন-গভির এরদোয়ানের সমালোচনা করেন। নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, এরদোয়ান নিজ দেশের কুর্দি নাগরিকদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন চালিয়েছেন। এর জবাবে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নেতানিয়াহুকে ‘আমাদের সময়ের হিটলার’ বলে আখ্যা দেয়।











