ইসলামী ব্যাংক থেকে নিয়ম ভেঙে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে নাবিল গ্রুপ। এরইমধ্যে রাজশাহীর এই গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল ইসলাম ও তার পরিবারের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করেছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট-বিএফআইইউ। ঋণ জালিয়াতির তথ্য চেয়ে নাবিল গ্রুপের ১১টি কোম্পানিকে চিঠি পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনও। সরকারি জমি দখলেরও অভিযোগ রয়েছে নবিল গ্রুপের বিরুদ্ধে। আর্থিক খাত বিশ্লেষকরা বলছেন, ঋণ খেলাপীদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা সঠিক সিদ্ধান্ত।
ব্যাংক লুটের জন্য আলোচিত এস আলম গ্র“পের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর থেকে ইসলাশী ব্যাংকে ঋণ বিতরণ হয়েছে কেবল তদবির আর রাজনৈতিক প্রভাবে। নিয়ম ভেঙ্গে ঋণ নেয়ার এই তালিকায় আছে রাজশাহীভিত্তিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান- নাবিল গ্র“পের নাম।
এই গ্র“প নামে-বেনামে ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন ও ইসলামী ব্যাংকের তথ্যে পাওয়া যায়, গত কয়েক বছরে ঋণ ‘অনিয়মে’ নাম আসা নাবিল গ্র“পকে ভিন্ন নামে ঋণ দেওয়া হয়েছে। বেশিরভাগ ঋণ দেয়া হয়েছে রাজধানীর গুলশান এবং রাজশাহী অঞ্চলের ইসলামী ব্যাংকের কয়েকটি শাখা থেকে। বিশেষ সুবিধায় নিয়ম ভেঙে গ্র“পটিকে সীমার অতিরিক্ত ঋণ দিয়েছে ব্যাংকটির তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদ।
ঋণ অনিয়মে নাম আসায় রাজশাহীর নাবিল গ্র“প অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল ইসলাম, তার বাবা-মা, স্ত্রী এবং ছেলে-মেয়ের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করেছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট-বিএফআইইউ। এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রয়েছে সরকারি জামি দখলের অভিযোগও। এরই মধ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গা দখল করে গড়ে তোলা স্থাপনা উচ্ছেদের নোটিশ পাঠিয়েছে রাজশাহী সড়ক বিভাগ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ হিসেব থেকে জানা যায়, খেলাপী ঋণের পরিমাণ এখন ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। যা মোট ঋণের ১২দশমিক পাঁচ-ছয় শতাংশ। অর্থনীতি বিশ্লে¬ষকরা বলছেন, ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিলে ব্যাংক লুটপাটের সংস্কৃতি বন্ধ হবে না।
প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগে মাঠে নেমেছে দুদক। নাবিল গ্র“পের ১১টি প্রতিষ্ঠানের ঋণ জালিয়াতির তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।