পশ্চিমাঞ্চল দিয়ে ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। মঙ্গলবার সকাল ৮টায় আগামী ১৩ মার্চের টিকেট বিক্রির মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ঈদযাত্রার শতভাগ টিকেট অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে, যা চলবে ৯ মার্চ পর্যন্ত। ফিরতি যাত্রার টিকেট বিক্রি হবে ১৩ থেকে ১৮ মার্চ।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকী বলেন, “সকাল ৮টায় পশ্চিমাঞ্চলের আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে, আর দুপুর ২টা থেকে পূর্বাঞ্চলের টিকেট বিক্রি শুরু হবে।”

এরপর ৪ মার্চে পাওয়া যাবে ১৪ মার্চের টিকেট; ৫ মার্চ পাওয়া যাবে ১৫ মার্চের; ৬ মার্চ মিলবে ১৬ মার্চের; ৭ মার্চ মিলবে ১৭ মার্চের; ৮ মার্চ মিলবে ১৮ মার্চের এবং ৯ মার্চ পাওয়া যাবে ১৯ মার্চের টিকেট।

রেল কর্তৃপক্ষ বলছে, এবারের ঈদযাত্রায় একজন যাত্রী একটি এনআইডি ব্যবহার করে একবারই টিকিট কিনতে পারবেন এবং এক লেনদেনে সর্বোচ্চ চারটি আসন সংগ্রহ করা যাবে।

তবে কেনা টিকেট কোনোভাবেই ফেরত বা রিফান্ড করার সুযোগ থাকবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে রেলওয়ে।

যারা অনলাইন থেকে আসন পাবেন না, তাদের জন্য যাত্রা শুরুর আগে প্রারম্ভিক স্টেশন থেকে নন-এসি কোচের ২৫ শতাংশ ‘দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট’ বা স্ট্যান্ডিং টিকিট সংগ্রহের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

যেভাবে কাটবেন টিকেট

রেলওয়ের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে ঢুকেই যাত্রীরা ঘরে বসে টিকিট কিনতে পারবেন। এ জন্য আগে একবার নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। আগে থেকে নিবন্ধন করা থাকলে সরাসরি লগইন করেই টিকিট কাটা যাবে।

রেজিস্ট্রেশন করতে হলে https://eticket.railway.gov.bd/ ঠিকানায় প্রবেশ করে উপরের ডান পাশে থাকা ‘রেজিস্ট্রেশন’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। এরপর ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ করে ‘ভেরিফাই’ বাটনে চাপ দিলে মোবাইলে একটি ওটিপি যাবে। সেই ওটিপি দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাকাউন্টে লগইন হয়ে যাবে।

টিকিট কিনতে লগইন করার পর ভ্রমণের তারিখ, যাত্রা শুরুর স্টেশন, গন্তব্য ও শ্রেণি নির্বাচন করে ‘ফাইন্ড টিকিট’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। তখন নির্ধারিত তারিখের ট্রেনের তালিকা, আসন খালি আছে কি না এবং ছাড়ার সময় দেখা যাবে।

পছন্দের ট্রেন নির্বাচন করে ‘ভিউ সিটস’–এ ক্লিক করলে খালি আসন দেখাবে। সেখান থেকে আসন বেছে নিয়ে ‘কন্টিনিউ পারচেজ’ অপশনে যেতে হবে। এরপর আবার একটি ওটিপি মোবাইলে পাঠানো হবে, সেটি দিয়ে অগ্রসর হতে হবে।

সবশেষে মোবাইল ব্যাংকিং বা কার্ডের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করলে ই-টিকিট স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডাউনলোড হবে। একই সঙ্গে নিবন্ধিত ই-মেইল ঠিকানায় টিকিটের কপি পাঠানো হবে।

ডাউনলোড করা পিডিএফ টিকিট মোবাইলে দেখিয়েই ভ্রমণ করা যাবে। চাইলে ই-মেইল থেকে প্রিন্ট কপি নিয়ে ফটো আইডিসহ সংশ্লিষ্ট সোর্স স্টেশন থেকেও ছাপানো টিকিট সংগ্রহ করা যাবে।

প্রসঙ্গত, ৩ মার্চ থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হবে। আর ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রি হবে ১৩ মার্চ থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত।