বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা একযোগে পদত্যাগ করেছেন। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতাদের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন ও লেজুড়বৃত্তিক অবস্থানের প্রতিবাদ জানিয়ে তারা পদত্যাগ করেছেন।
রোববার (২৩ জুলাই) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ২১ নেতা। ঢাবি ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি আসিফ মাহমুদ সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এ সময় সাধারণ সম্পাদক আহনাফ সাঈদ খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুসরাত তাবাসসুমসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তাদের লিখিত বিবৃতিতে বলা হয়, “গণঅধিকার পরিষদের সাম্প্রতিক কাউন্সিলে (নূর) নিয়ম অমান্য করে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আদিব ভোট দিয়েছেন। এ অবস্থায় গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে তারা ছাত্র পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।”
এদিকে পদত্যাগের বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হয়েছে বলে রোববারই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি। এ বিষয়ে ‘পদক্ষেপ নেওয়া হবে’ বলেও সেখানে জানানো হয়েছে।
ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আসিফ মাহমুদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের প্রতিষ্ঠার ঘোষণাপত্র, গঠনতন্ত্রের প্রস্তাবনা ও অনুচ্ছেদ ৮ (লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য) এর এক নম্বর ধারায় দলীয় দাসত্ব ও লেজুড়বৃত্তিক ছাত্র রাজনীতির বাইরে স্বাধীন ধারায় ছাত্র রাজনীতি চর্চার মাধ্যমে ছাত্রদের যৌক্তিক দাবি ও ন্যায়সঙ্গত অধিকার আদায়ে সোচ্চার ভূমিকা পালন করার কথা বলা হয়েছে। যা অমান্য করছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।”
তিনি বলেন, “গত ১০ জুলাই ঘোষণাপত্র, গঠনতন্ত্রের প্রস্তাবনা ও অনুচ্ছেদ ৮ এর ওই ধারা লঙ্ঘন করে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কর্তৃক গণঅধিকার পরিষদের লেজুড়বৃত্তি করার অভিযোগ উত্থাপন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। এছাড়াও লিখিত অভিযোগ জানায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
“গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করায়, গঠনতান্ত্রিকভাবে তাদের পদ শূন্য হলেও সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। অভিযোগ পরবর্তী দুই সপ্তাহেও কেন্দ্রীয় পরিষদ উক্ত বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। যার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের প্রতিষ্ঠার ঘোষণাপত্র ও ছাত্র সমাজের প্রতি প্রতিশ্রুত আদর্শের বিচ্যুতি ঘটেছে বলে আমরা মনে করি।”
পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “এমতাবস্থায় লেজুড়বৃত্তিহীন ছাত্র রাজনীতি প্রতিষ্ঠার আদর্শ ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ আমরা বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা একযোগে পদত্যাগ করছি।”
দেড় বছর আগে গণঅধিকার পরিষদ গঠনের সময় নুরকে সদস্য সচিব ও রাশেদকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছিল। আহ্বায়ক হন রেজা কিবরিয়া।
সম্প্রতি তাদের বিবাদে পাল্টাপাল্টি অপসারণের ঘোষণা আসে। এর মধ্যেই রেজাকে বাদ রেখে পুরানা পল্টনের প্রীতম-জামান ভবনে সোমবার সম্মেলনে বসে নুরের পক্ষ। সেই সম্মেলনে ইয়ামিন মোল্লা ও আরিফুল ইসলাম আদিবকে ভোটার করা হয়।
সেই প্রসঙ্গ ধরে ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুসরাত তাবাসসুম বলেন, “আমাদের মনে হয়েছে, ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় দুই নেতা তাদের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করেনি এবং লেজুড়বৃত্তিক কার্যক্রম বন্ধ করতে পারেনি। সে প্রেক্ষিতে পদত্যাগ করাকেই আমরা সমাধান মনে করছি। তবে আমরা ব্যানার ছাড়াই শিক্ষার্থীদের পক্ষে কথা বলব।”