গণনা শুরু হওয়ার পর থেকে যে কোনো বছরের তুলনায় এ বছর সবচেয়ে বেশি ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা দপ্তর। এইড ওয়ার্কার সিকিউরিটি ডাটাবেজ অনুসারে, এই বছর এখন পর্যন্ত ২৮১ জন ত্রাণকর্মী হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ১৯৯৭ সাল থেকে রেকর্ডে থাকা সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ছিল ২০২৩ সালে ২৮০ জন।

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক নতুন আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও জরুরি ত্রাণ সমন্বয়ক টম ফ্লেচার বলেন, ‘বুলেট ও বিভিন্নভাবে মানবতাবাদী কর্মীরা নজিরবিহীন হারে হত্যার শিকার হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘২০২৩ সালজুড়ে ৩৩টি দেশে ২৮০ জন মানবতাবাদী নিহত হয়েছেন। অথচ ২০২৪ সাল শেষ হতে এক মাসেরও বেশি সময় বাকি থাকতেই এ সংখ্যা ভয়াবহ মাইলফলক স্পর্শ করেছে।’

ফ্লেচার বলেন, ‘সহায়তা কার্যক্রমের জন্য এই সহিংসতা অযৌক্তিক ও ধংসাত্মক।’

জাতিসংঘ মানবাধিকার অফিস বলেছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের হামলার পর থেকে সূত্রপাত হওয়া গাজায় ইসরাইলের ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ এই নিহতের সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়েছে। সেখানে এখন পর্যন্ত ৩৩৩ জন সাহায্যকর্মী নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সহায়তাকারী জাতিসংঘ সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ)-এর সদস্য।

ফ্লেচার বলেন, রাষ্ট্র ও সংঘাতের সব পক্ষকে অবশ্যই মানবতাকর্মীদের রক্ষা করতে হবে, আন্তর্জাতিক আইনকে সমুন্নত রাখতে হবে, দায়ীদের বিচার করতে হবে।

আফগানিস্তান, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, সুদান এবং ইউক্রেনসহ বেশ কিছু দেশে সাহায্য কর্মীরা অপহরণ, আঘাত, হয়রানি ও নির্বিচারে আটকের শিকার হয়েছেন।

ফ্লেচারের কার্যালয় আরো জানায়, নিহতদের বেশিরভাগ বেসরকারি সংস্থা, জাতিসংঘ সংস্থা এবং রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট আন্দোলনের সঙ্গে কাজ করা স্থানীয় কর্মী।

গত বছর ১৪টি সশস্ত্র সংঘাতে ৩৩ সহস্রাধিক বেসামরিক মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যা ২০২২ সালের তুলনায় ৭২ শতাংশ বেশি।