তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে পাত্তাই পায়নি স্বাগতিক ভারত। ৩ ম্যাচের সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ ডু অর ডাই স্টিভ স্মিথের দলের কাছে। এমন সমীকরনে টসে হেরে হেরে ব্যাট করতে নেমে অজি পেসার মিচেল স্টার্কের তোপের মুখে পড়ে রোহিত শর্মার দল। শেষ পর্যন্ত ২৬ ওভারে ১১৭ রানে অলআউট হয় ভারত। সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১১ ওভারেই, ১০ উইকেটে হাসতে-হাসতে জিতল অস্ট্রেলিয়া।
ভারতের দেওয়া ছোট রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী খেলতে থাকেন দুই অজি ওপেনার মিচেল মার্শ ও ট্রাভিস হেড। ভারতের বোলারদের কোন সুযোগ না দিয়ে একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকাতে থাকেন মার্শ ও হেড। ফলে শেষ পর্যন্ত মাত্র ১১ ওভারেই ১০ উইকেটের বড় জয় তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া। উইকেটে মিচেল মার্শ ৬৬ ও ট্রাভিস হেড ৫১ রানে অপরাজিত থাকেন। এই জয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে ১–১ সমতা এনেছে অজিরা।
এদিন টস জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন অস্ট্রেলিয়ান কাপ্তান স্টিভেন স্মিথ। অধিনায়ক সিদ্ধান্ত যে সঠিক তার প্রমাণ ইনিংসের প্রথম ওভারেই দেন স্টার্ক। রানের খাতা খোলার আগেই শুভমান গিল (০) বিদায় নেন। এরপর রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি মিলে শুরুর সেই ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।
তবে দলীয় ৩২ রানে আবারও স্টার্কের আগ্রাসী বোলিংয়ে টানা দুই বলে রোহিত (১৩) ও সূর্যকুমার যাদবের (০) জোড়া উইকেট হারায় ভারত। ৪৮ রানে কেএল রাহুলকে (৯) নিজের চতুর্থ শিকারে পরিণত করে ভারতীয় ব্যাটারদের নাকানি-চোবানি খাওয়ান স্টার্ক।
দ্রুতই তার দলে যোগ দেন শন অ্যাবটও। স্লপে স্মিথের দুর্দান্ত এক ক্যাচে হার্দিক পান্ডিয়াকে (১) ফেরান এই পেসার। ব্যর্থতার মিছিলে একা হাতে লড়ছিলেন ভিরাট কোহলি। তবে দলীয় ৭১ রানে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩১ রান করে বিদায় নেন এই ব্যাটিং জিনিয়াস। পরে ৯১ থেকে ১০৩ রানে মধ্যে আরও তিন উইকেট হারায় ভারত।
রবীন্দ্র জাদেজা ৩৯ বলে ১৬, কুলদীপ যাদব ১৭ বলে ৪ ও মোহাম্মদ শামি রানের খাতা না খুলেই সাজঘরে ফিরে যান। শেষ পর্যন্ত ২৬ ওভারে ১১৭ রানে অলআউট হয় রোহিত শর্মার দল। বোলিংয়ে অস্ট্রেলীয়ার হয়ে মিচেল স্টার্ক ৫৩ রান খরচায় শিকার করেছেন ক্যারিয়ারের অষ্টম ৫ উইকেট। শন অ্যাবটের ৩ উইকেটের সঙ্গে নাথান এলিস পান দুটি।
রান তাড়া করতে নেমে ভারতের বোলারদের ওপর শুরু থেকেই ঝড় বইয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার ট্রাভিস হেড ও মিচেল মার্শ। স্বাগতিক বোলারদের কোনো সুযোগ না দিয়ে মাত্র ২৮ বলেই নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ফিফটি হাঁকান।
এই ব্যাটার শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৩৬ বলে ৬৬ রানে। মার্শ তার ইনিংসটি সাজান ৬ টি করে চার ছক্কায়। তার সঙ্গী ট্রাভিস হেড শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৩১ বলে ৫১ রানে। ভারতের বোলারদের সবাই বেশ খরুচে বোলিং করেছেন। তার মধ্যে শামি, সিরাজ ও হার্দিক পান্ডিয়া দশের বেশি গড়ে রান দিয়েছেন। সেই তুলনায় অক্ষর, কুলদীপ একটু ছাড় পান।