মধ্য আফ্রিকার দেশ ডিআর কঙ্গোতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনবিরোধী বিক্ষোভে সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৩ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৫৬ জন। শুক্রবার (পহেলা সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার গোমা শহরের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন ও অন্যান্য বিদেশি সংস্থার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ এক সময় ব্যাপক হিংসাত্মক হয়ে ওঠে। যারা বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে, তাদের অভিযোগ ছিল- মিলিশিয়া সহিংসতার বিরুদ্ধে শান্তিরক্ষীরা বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষা করতে ব্যর্থ।
বিক্ষোভকরারীরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ডাক দেয়। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ফুটেজে দেখা যায়, বেসামরিকরা লাঠি দিয়ে এক পুলিশকে বেঁধে পেটাচ্ছে। রয়টার্স এই ফুটেজের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি।
বুধবার বিবৃতিতে কঙ্গোর সেনাবাহিনী জানায়, আন্দোলন সহিংসতায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৫৮ জন। তবে জাতিসংঘের একটি সূত্র জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা আটজন। এর মধ্যে দুই সেনা ও একজন পুলিশ সদস্য রয়েছে।
পরে বৃহস্পতিবার আরেকটি বিবৃতিতে সেনাবাহিনী জানায়, বিক্ষোভের নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩ জনে। আহতের সংখ্যা ৫৬।
আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের প্রধান অ্যানি সিলভি লিন্ডার জানিয়েছেন, বিক্ষোভের পর ছুরির আঘাত ও গুলিবিদ্ধ অবস্থায় অনেকে চিকিৎসা নিতে আসছেন। অনেকের মৃত্যুও হয়েছে।
এর আগে ২০২২ সালে জাতিসংঘ বিরোধী এক বিক্ষোভে তিনজন শান্তিরক্ষীসহ ১৫ জন নিহত হয়েছিলেন।
কঙ্গোতে বছরের পর বছর দরে চলা সহিংসতা ও প্রাকৃতিক দুযোর্গ বেড়েছে মানবিক সংকট। গোমার ৫৫ লাখ মানুষ ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। অনেকে আশ্রয় নিয়েছে পার্শ্ববর্তী প্রদেশে।