প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ব্রাউন ইউনিভার্সিটি বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করেছে। জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কমিউনিটি ক্লিনিক মডেল তৈরির জন্য জাতিসংঘ স্বীকৃতির পরিপ্রেক্ষিতে তাকে এই বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।

ব্রাউন ইউনিভার্সিটির স্বাস্থ্য বিষয়ক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ওয়ারেন অ্যালপার্ট মেডিকেল স্কুলের মেডিসিন অ্যান্ড বায়োলজিক্যাল সায়েন্সের ডিন ডা. মুকেশ কে. জৈন এখানে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার অবস্থানস্থল দ্য লোটে নিউইয়র্ক হোটেলে প্রশংসাপত্রটি হস্তান্তর করেন।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে জাতিসংঘের ৭৮তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে কমিউনিটি ক্লিনিক নিয়ে আয়োজিত সাইড লাইন বৈঠকে যোগ দেন তিনি।

সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের ‘কমিউনিটি ক্লিনিক’অনগ্রসর বিশ্বের জন্য মডেল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় জাতিসংঘের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেন, গোটা বিশ্বের মানুষ যাতে এই স্বাস্থ্য সেবার সুবিধা পায় সেজন্য ধনী-গরীব সব রাষ্ট্রকে এক জোট হয়ে কাজ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে এখন সাড়ে ১৪ হাজারের বেশী কমিউনিটি ক্লিনিক আছে। সেখানে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে নয় লাখ মানুষ স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছেন। বিপুল সংখ্যক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার এই মহাপরিকল্পনাকে কার্যকর করতে আরো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

নারী, বৃদ্ধ ও শিশুদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসারও উদ্যেগ নেয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এই মডেল অনুসরণ করায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বাস্থ্য সেবা অনেকাংশে নিশ্চিত হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

২০০৯ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুনরায় কমিউনিটি ক্লিনিক কার্যক্রম চালু করার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। ৫ বছর মেয়াদি প্রকল্পে ১৩ হাজার ৫০০ টি কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার-সিএইচসিপি নিয়োগ দেওয়া হয়।

প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক চালু রয়েছে। ২০২৩ সালের মধ্যে ১৪ হাজার ৮৯০টি ক্লিনিকের নির্মাণ কাজ শেষ হবে।