ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় সব কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন চিকিৎসকরা। এতে করে আজ থেকে রুটিন অনুযায়ী পুরোদমে চিকিৎসা কার্যক্রম চলবে বলে জানিয়েছেন ঢামেক হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের রেসিডেন্ট চিকিৎসক আব্দুল আহাদ।

মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ায় তারা কাজে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে আব্দুল আহাদ বলেন, প্রথম দুটি দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। হামলাকারীদের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। যেসব হাসপাতাল এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এখনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন হয়নি, সেসব স্থানে দ্রুত বাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। স্বাস্থ্য সচিব এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমরা আশাবাদী, শিগগিরই এ দাবিগুলোর বাস্তবায়ন হবে। স্বাস্থ্য সেবার পরিবেশ আরো নিরাপদ হবে। তৃতীয় ও চতুর্থ দাবি অনুযায়ী স্বাস্থ্য পুলিশ গঠন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়নের বিষয়ে দীর্ঘ ও তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। এসব দাবির বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন স্বাস্থ্য সচিব। এজন্য একটি কার্যকর কমিটি গঠন করা হবে, যেখানে আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের একটি প্রতিনিধি দল থাকবে। এছাড়া, স্বাস্থ্য সেবার বিভিন্ন অসঙ্গতি যেমন ক্যাডার বৈষম্য ও রেফারেল সিস্টেমের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শনিবার রাতে তিন দফায় হামলা ও মারধরের ঘটনায় রাতেই কাজ বন্ধ করে দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। অন্য চিকিৎসকরাও তাদের কর্মবিরতিতে সংহতি জানান। রোববার সারা দেশের সব হাসপাতালে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এদিন স্বাস্থ্য উপদেষ্টার সঙ্গে তারা বৈঠকও করেন।

সোমবার বিকেলে তিন ঘণ্টা বহির্বিভাগ খোলা ও অন্যান্য চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তারা আন্দোলন কর্মসূচি পালনের কথা জানান। তবে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় সরকারের তরফ থেকে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়ে মঙ্গলবার তারা পুরোদমে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলেন।

কর্মসূচি প্রত্যাহার ঘোষণার আগে মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটায় চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল স্বাস্থ্য সচিবের সঙ্গে বৈঠক করেন।

আব্দুল আহাদ বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা আমাদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। সিনিয়র স্বাস্থ্য সচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন’ নিয়ে আগের খসড়ার আলোকে আরো তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় চেয়েছে। এই সময়ের ভেতরে পূর্ববর্তী স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইনের খসড়ায় যে অসংগতিগুলো রয়েছে, সেগুলো নিয়ে তারা আলোচনা করবেন এবং আরেকটি খসড়া ওয়েবসাইটে প্রকাশিত করবেন।