পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ তোলায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও মারামারির মামলায় গ্রেফতার চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহিকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। আজ (শনিবার) দুপুরে নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা মাহিকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৫ এ হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। তবে বিচারক শুনানি শেষে রিমান্ড নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে মাহিয়া মাহিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরার পথে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শুক্রবার (১৭ই মার্চ) চিত্রনায়িকা মাহি ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। মাহিয়া মাহি ও স্বামীর বিরুদ্ধে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ আনা হয়েছে মামলায়।
মাহি গতকাল জানান, ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের পূর্ব পাশে ‘সনিরাজ কার প্যালেস’ নামে তার স্বামীর একটি গাড়ির শোরুম রয়েছে। সেখানে দুর্বৃত্তরা হামলা করেছে। তারা শোরুমের গেইট ভেঙে ভেতরে ঢুকে আসবাব, দরজা-জানালা, টেবিল-চেয়ার ভাঙচুর করেছে। শোরুমের সাইনবোর্ড খুলে ফেলেছে। অফিসকক্ষ তছনছ করে টাকা-পয়সা লুট করে নিয়ে গেছে।
মাহির অভিযোগ, ইসমাইল ওরফে লাদেন নামে প্রতিপক্ষ তাদের শো রুম দখল করে নিয়েছে। আর একাজে সহযোগিতা করেছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোল্যা নজরুল ইসলাম। তিনি দেড় কোটি টাকার বিনিময়ে গাড়ির শোরুম দখল করে দিচ্ছেন।
মাহি আরো জানান, দেশে ফিরে ১৮ই মার্চ শনিবার বিকাল ৫টায় ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ সংলগ্ন সনি রাজ কার প্যালেসে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘটনার বিস্তারিত তিনি জানাবেন। তবে তার আগেই তাদের গ্রেপ্তার করা হলো।
এছাড়া মারধর, ভাঙচুর, চাঁদা দাবি ও জমি দখলের অভিযোগ এনে মাহি ও তার স্বামী রকিব সরকারকে আসামি করে আরও একটি মামলা করেন স্থানীয় ইসমাইল হোসেন। এ মামলায় ২৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।