এমনিতেই চলছে তীব্র তাপপ্রবাহ। আর সেই সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে পাল্লা দিয়ে চলা লোডশেডিংয়ের কারণে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। লোডশেডিংয়ের কারণে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন তারা। গত কয়েক বছরের তুলনায় গরমের তীব্রতা ক্রমশ বাড়ছে। গরমে ঘেমে-নেয়ে ঘরে বাইরে হাঁস-ফাঁস করছে মানুষ। তীব্র তাপে যেন শরীর পুড়ে যাচ্ছে! এতে অসুস্থ হয়ে পড়ছে মানুষ। আবহাওয়ার এমন বৈরিভাব নিকট অতীতে দেখা যায়নি।

গত কয়েকদিন ধরে রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী এবং সৈয়দপুর জেলার ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। গতকালও দিনাজপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে ৪০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দেশের সিলেট, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও ঢাকা জেলাসহ আরও কয়েক জায়গায় মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে আরও তিনদিন এ তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।

তীব্র এ গরমের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং। বাড়ধানীতে গত কয়েকদিন ধরে প্রতি ঘন্টায় লোডশেডিং হচ্ছে। গতকাল সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকায় এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে গতকাল ভোর পর্যন্ত বার বার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় গরমে মানুষের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। অনেকেবই বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থায় ফোন করে অভিযোগ জানাচ্ছেন। কিন্তু তাতেও কোন কাজ হচ্ছে না। দফায় দফায় লোডশেডিং আর প্রচন্ড গরম দুর্বিষহ করে তুলেছে জনজীবন।

রাজধানীর মালিবাগ এলাকার গৃহিনী আসমা আক্তার বলেন, এই গরমের মধ্যে যে ভাবে ঘন্টায় ঘন্টায় কারেন্ট যায় তাতে জীবন একেবারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। আমাদের মতো গরীবদেরতো মরণ অবস্থা। টিনশেড ঘরে থাকি। এমনিতে টিন গরম হয়ে উপর থেকে ভাপ পড়তে থাকে। এঅবস্থা কারেন্ট থাকলে অনন্ত ফ্যানের নিচে সামান্য স্বস্তি পাওয়া যায়। কারেন্ট গেলেতো দুর্বিষহ অবস্থা।

শুধু রাজধানী নয়, ময়মনসিংহ, খুলনা, রাজশাহীর বিভিন্ন গ্রামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। ঢাকার আশপাশের এলাকাতেও তিন থেকে চার ঘণ্টার লোডশেডিংয়ে ভুগছে মানুষ। দুই বিতরণ সংস্থা বলছে, চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতি সমন্বয় করতে নিয়মিত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। ঢাকা শহরে গতকাল গড়ে প্রায় ৪ ঘণ্টা লোডশেডিং করেছে দুই বিতরণ সংস্থা। টানা তিন দিন ধরে বয়ে চলা তাপপ্রবাহের কারণে গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ। এতে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে গেছে। কিন্তু জ্বালানির অভাবে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। তাই গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে লোডশেডিং। ভোগান্তিতে পড়েছে মানুষ।
আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, ৮ অথবা ৯ জুন বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি হতে পারে। অর্থাৎ ৭ জুন পর্যন্ত দেশের তাপমাত্রা বেশি থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বেহাল দশা। কয়লার অভাবে পায়রায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বিঘিœত হচ্ছে। এ অবস্থা চললে দু’একদিনের মধ্যে পুরোপুরি উৎপাদন বন্ধ করে দিতে পারে দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র পটুয়াখালীর পায়রা। এতে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে। কয়লার অভাবে এখন উৎপাদন হচ্ছে সক্ষমতার অর্ধেকের চেয়ে কম। ৬০০ মেগাওয়াট করে উৎপাদন করছে কেন্দ্রটি। বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গরম না কমায় বিদ্যুৎ পরিস্থিাতিরও আরও অবনতি হয়েছে। চাহিদা যত বাড়ছে, ঘাটতিও তত বাড়ছে।

দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ছাড়িয়ে ৪১ ডিগ্রীতে পৌঁছেছে। প্রচন্ড তাপে পুড়ছে উত্তরের দিনাজপুরসহ কয়েকটি জেলা। উত্তরের জেলাগুলোতে ভ্যাপসা গরমে মানুষ যেন সিদ্ধ হয়ে যাওয়ার অবস্থা। খোদ রাজধানীর তাপমাত্রাও এর কাছাকাছি অবস্থান করছে। ঘরে-বাইরে কোথাও স্বস্তি নেই। দাবদাহ থেকে বাঁচতে বৃষ্টির আশায় বুক বেধে আছে মানুষ। গতকাল দেশের অনেক স্থানে জুমার নামাজ শেষে মসজিদে বৃষ্টির জন্য দোয়া করা হয়েছে।