মিশর থেকে রাফাহ ক্রসিং হয়ে গাজা উপত্যকায় প্রবেশ করতে শুরু করেছে রেড ক্রিসেন্টের মানবিক সহায়তাবাহী ট্রাকগুলো। যদিও ত্রাণ সংস্থাগুলো বারবার ২০ ট্রাকের এই সহায়তাকে ‘সমুদ্রের মাঝে একফোঁটা পানির’ সঙ্গে তুলনা করে আসছে।

গাজার ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বলছেন, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ত্রাণের যে বহর প্রবেশ করছে, তা খুবই সীমিত। বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজনে আহত ব্যক্তিদের জন্য একটি মানবিক করিডোর অবশ্যই স্থায়ীভাবে খোলা রাখতে হবে।

পশ্চিম তীরের বাসিন্দারা বলছেন, এসব ত্রাণসহায়তা নিছক লোকদেখানো। এসব ত্রাণ প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য।

এদিকে রাফাহ ক্রসিং দিয়ে প্রবেশ করা ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে কোনো জ্বালানি নেই। আর এটিই এখন উদ্বেগের মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা, পানি সরবরাহ করতে পাম্প চালানো প্রয়োজন। আর পাম্প চালাতে জ্বালানির বিকল্প নেই। জ্বালানিসংকটের কারণে গত রোববার গাজায় সর্বশেষ চালু থাকা পানি শোধনাগার কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে গেছে।

জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, তারা মাত্র ৪৪ হাজার বোতল সুপেয় পানি পাঠাতে পেরেছে। এই পানি দিয়ে এক দিন ২২ হাজার মানুষ চলতে পারবে। অথচ গাজার জনসংখ্যা ২৩ লাখ।

ইউনিসেফ জানায়, গাজার ১০ লাখ শিশু এখন একটি গুরুতর সুরক্ষা এবং মানবিক সংকটের মুখোমুখি। পানি এখানে জীবন–মৃত্যুর বিষয়। প্রতিটি মিনিট ভয়াবহ অবস্থার মধ্য দিয়ে কাটছে। প্রথম দফায় সীমিত পরিমাণে পাঠানো পানি হয়তো জীবন বাঁচাবে। তবে শুধু পানি নয়; খাদ্য, জ্বালানি, ওষুধ এবং অত্যাবশ্যক পণ্য ও পরিষেবাগুলো তাৎক্ষণিক এবং ব্যাপকভাবে প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী গাজা উপত্যকায় অনবরত হামলা করে যাচ্ছে। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসকে নিশ্চিহ্ন করতে প্রতিনিয়ত হামলা জোরদার করছে তারা। ইসরায়েলের হামলায় ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। যুদ্ধবিদ্ধস্ত গাজায় দেখা দিয়েছে মানবিক সংকট।