ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের আঘাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে গাছ ও ঘর চাপা পড়ে মারা গেছে অন্তত ১০ জন। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দমকা বাতাসে কুমিল্লায় তিনজন, ভোলায় তিনজন, সিরাজগঞ্জে দু’জন, নড়াইল ও বরগুনায় একজন করে মোট ১০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতির কারণে মঙ্গলবার খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার হেসাখালে গাছ উপড়ে পড়ে একই পরিবারের তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। সিত্রাং এর প্রভাবে ঝোড়ো হাওয়ায় গাছ উপড়ে পড়ে শিশু সন্তানসহ দম্পতির মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে গাছ উপড়ে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন নিজাম উদ্দিন, তার স্ত্রী সাথি আক্তার ও তাদের মেয়ে লিজা আক্তার। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন হেসাখাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইকবাল বাহার মজুমদার। চেয়ারম্যান ইকবাল জানান, পরিবারটির ঘরের ওপর এসে পড়ে উপড়ে যাওয়া গাছটি। এতে ঘরেই একজনের মৃত্যু হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর অন্য দু’জন মারা যান।

ঘূর্ণিঝড় ‘সিত্রাং’ এর কবলে পড়ে ভোলা ও নড়াইল জেলায় তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ভোলার দৌলতখান ও চরফ্যাশন এবং নড়াইলের লোহাগড়ায় গাছ ভেঙে এসব মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। উপজেলা প্রশাসনের বরাত দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিভিন্ন গণমাধ্যম।

দৌলতপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তৌহিদুল ইসলাম জানান, ঝড়ে পৌরসভায় একজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। নিহত নারীর নাম বিবি খাদিজা (৮০)।

চরফ্যাশনের ইউএনও আল নোমান জানান, সেখানে আলম স্বর্ণকার নামে এক ব্যক্তি ভেঙ্গে পড়া গাছের ডালের সঙ্গে আঘাত পেয়ে নিহত হয়েছেন। তিনি উপজেলার এওয়াজপুর এলাকার বাসিন্দা।

এদিকে ঝড়ো হাওয়ায় গাছের ডাল ভেঙে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে বলে লোহাগড়া থানার ওসি মো. নাসির উদ্দীন জানান। নিহত মর্জিনা বেগম (৪০) বাগেরহাট সদর উপজেলার অর্জনবাহার গ্রামের বাসিন্দা।