বড় কোনো গোলযোগ ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চতুর্থ ধাপের ভোটগ্রহণ। দেশের ৬০ উপজেলার পাঁচ সহস্রাধিক ভোটকেন্দ্রে বুধবার সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়, একটানা বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলে।

চতুর্থ ধাপে ছয়টি উপজেলায় ইভিএমে এবং বাকিগুলোতে ব্যালট পেপারে ভোট হয়। আগের তিনটি ধাপের মতই তুলনামূলক কম ভোটার উপস্থিতিতে ভোটগ্রহণ হয়। ভোট শেষে কেন্দ্রে কেন্দ্রে শুরু হয় গণনা।

ভোট গণনা শেষে রাতে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা।

চতুর্থ ধাপের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে একজন, ভাইস চেয়ারম্যান তিনজন ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে একজন ইতোমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

এবারের ধাপে চেয়ারম্যান হলেন যারা:

ফেনী: ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাপ-পিরচ প্রতীকের প্রার্থী মিজানুর রহমান মজুমদারকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৯২১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী এ. এস. এম সহিদ উল্যাহ মজুমদার (দোয়াত কলম) পেয়েছেন এক হাজার ৩৪৯ ভোট।

এছাড়া মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিবি জোলেখা শিল্পী (কলস) ৪৯ হাজার ১৫০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী নাসিমা আক্তার (সেলাই মেশিন) ৭ হাজার ১১৪ ভোট পেয়েছেন।

এই উপজেলায় প্রদত্ত ভোটের হার ৩৫ দশমিক ১০ শতাংশ বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা।

জামালপুর: জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মো. রফিকুল ইসলাম আনারস প্রতীকে ৪২ হাজার ২১৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. তালেব উদ্দিন দোয়াত কলম প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ১৪৭ ভোট।

এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে আল আমিন তালা প্রতীকে ৩২ হাজার ৭০১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. গোলাম মোস্তফা চশমা প্রতীকে পেয়েছেন ২৮ হাজার ৬৬৫ ভোট।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোছা. মাহমুদা খাতুন কলস প্রতীকে ৪১ হাজার ৫৪৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোছা. জেলি আক্তার ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৮০৩ ভোট।

চাঁদপুর: চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে খাজে আহমেদ ৬০ হাজার ৮৭৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আমির আজম রেজা পেয়েছেন ২০ হাজার ৭১ ভোট।

এছাড়া কচুয়া উপজেলায় মাহবুব আলম ৩৪ হাজার ১৩৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাহজাহান শিশির পেয়েছেন ২৭ হাজার ১৭০ ভোট।

রংপুর: চতুর্থ ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে রংপুরের বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে বদরগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে টানা তৃতীয়বারের মতো বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলে রাব্বী সুইট। কাপ-পিরিচ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৬১ হাজার ৫৯৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক হাসান তবিকুর চৌধুরী মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৭৫২ ভোট।

অন্যদিকে তারাগঞ্জ উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা আনিছুর রহমান লিটন। দোয়াত-কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৪১ হাজার ৭৩৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির প্রার্থী শাহিনুর ইসলাম মার্শাল মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ২৫ হাজার ১৮৬ ভোট।

ভোটগণনা শেষে রাতে বেসরকারিভাবে নির্বাচিতদের নাম ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোছা. শাহানাজ বেগম।

যশোর: ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চতুর্থ ধাপে যশোর সদর উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেসরকারি ফলাফলে যশোর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে ৫৭ হাজার ৯১৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী তৌহিদ চাকলাদার ফন্টু। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফতেমা আনোয়ার ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৬১০ ভোট।

যশোর জেলা অতিরিক্ত নির্বাচন কর্মকর্তা ও নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ ও রায়গঞ্জ উপজেলায় ইভিএমের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কামারখন্দ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল মতিন চৌধুরী। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১৭ হাজার ২৮৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. সেলিম রেজা দোয়াত-কলম প্রতীকে পেয়েছেন ১৪ হাজার ১৭৮ ভোট।

অন্যদিকে রায়গঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে গোলাম হোসেন শুভন সরকার ঘোড়া প্রতীকে ৭০ হাজার ৮৪২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইমরুল হোসেন তালুকদার ইমন দোয়াত-কলম প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ৮০৫ ভোট।

সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও চতুর্থ ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের রিটানিং অফিসার মো. ইমরান হোসেন বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন।

বগুড়া: ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চতুর্থ ধাপে বগুড়ার নন্দীগ্রামে বিপুল ভোটের ব্যবধানে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন রানা। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীকে ৪১ হাজার ৩৭৯ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দুইবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৮ হাজার ৫১ ভোট।

রাতে নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. হুমায়ুন কবির।

অন্যদিকে ধুনটে ৪০ হাজার ৬০ ভোটে আনারস প্রতীক নিয়ে বেসরকারিভাবে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আসিফ ইকবাল। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি টিআইএম নুরুন্নবী তারিক মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৩৬২ ভোট।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. আশিক খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ফরিদপুর: চতুর্থ ধাপে ফরিদপুরের বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বোয়ালমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ মোশাররফ হোসেন মুশা মিয়া। দোয়াত-কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৪৩ হাজার ২৩৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী জেলা যুবলীগের সদস্য শরীফ মোহাম্মদ সেলিমুজ্জামান লিটু পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৩৫৫ ভোট।

অন্যদিকে আলফাডাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আলফাডাঙ্গা উপজেলার বানা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি কাজী মনিরুল হক বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১৪ হাজার ৭২২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ও কাপ-পিরিচ প্রতীকের প্রার্থী জেলা যুবলীগের সদস্য ও বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কে.এম.জাহিদুল হাসান পেয়েছেন ১০ হাজার ৮৭৮ ভোট।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এই নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রামানন্দ পাল বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। মানুষ তাদের ভোট বাধাহীনভাবে প্রয়োগ করেছে।

টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে কেএম গিয়াস উদ্দিন, মির্জাপুরে ব্যারিস্টার তাহরীম হোসেন সীমান্ত ও সখীপুরে মুহাম্মদ আবু সাইদ মিয়া চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছে। এছাড়াও বাসাইল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কাজী অলিদ ইসলাম পুনরায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মতিয়ুর রহমান বেসরকারিভাবে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন। তিনি জানান, চার উপজেলার ৩৬৭টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এসব উপজেলায় ২০ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী, ভাইস চেয়ারম্যান ১৩ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ১১ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। গোপালপুর উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পুরুষ ও মহিলা প্রার্থীরা আগেই বিনা-প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় ওই উপজেলায় শুধুমাত্র চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রাজশাহী: রাজশাহীর চারঘাট ও বাঘা উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচনে বাঘা উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন মোটরসাইকেল প্রতীকের লায়েব উদ্দিন লাভলু। তিনি পেয়েছেন ৩২ হাজার ৪০৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনারস প্রতীকের মো. রোকনুজ্জামান রেন্টু পেয়েছেন ৩২ হাজার ২৯৯ ভোট।

এছাড়া চারঘাট উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন মোটরসাইকেল প্রতীকের কাজী মাহমুদুল হাসান। তিনি পেয়েছেন ৩২ হাজার ২৮১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনারস প্রতীকের ফকরুল ইসলাম পেয়েছেন ৩২ হাজার ৪১ ভোট।

বুধবার রাতে বাঘা উপজেলা সহকারী সহকারী রিটার্নিং অফিসার তরিকুল ইসলাম ও চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মির্জা ইমাম উদ্দিনের স্বাক্ষরিত ফলাফলের কপি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে ৮ মে ১৩৯ উপজেলায়, দ্বিতীয় ধাপে ২১ মে ১৫৬ উপজেলায় এবং তৃতীয় ধাপে ২৯ মে ৮৭ উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। চতুর্থ ধাপে ৫ জুন ৬০ উপজেলায় ভোটগ্রহণ করা হয়। এছাড়াও ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে স্থগিত হওয়া ২০ উপজেলায় ভোট হবে ৯ জুন।