চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীকে হেনস্তার ঘটনায় মূল হোতা আজিমসহ সরাসরি জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। গেলোরাতে এক অভিযানে তাদের গ্রেফতার করে র্যাব-৭ এর একটি দল। শনিবার (২৩ জুলাই) সকালে র্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. নূরুল আবছার জানান, চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ বিষয়ে দুপুরের দিকে বহদ্দাহাট চান্দগাঁও ক্যাম্পে ব্রিফিং করবেন র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ ইউসুফ।
এর আগে জড়িত সন্দেহভাজনদের ধরতে শনিবার ভোর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত হলে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডি। ঘণ্টাব্যাপী চলা এ অভিযানে ৮০ জন পুলিশ সদস্য অংশ নেন।
অভিযান শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রবিউল হাসান বলেন, ‘ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সময় ও জায়গার ব্যাপারে ভুল তথ্য দিয়েছিলেন। এ কারণে তাদের শনাক্ত করতে সময় লেগেছে। পরে শিক্ষার্থীর তথ্যের ভিত্তিতে দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের একজনের নাম মেহেদী হাসান ও আরেকজন আজিম হোসাইন।’
গত ১৭ জুলাই রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রীতিলতা হল থেকে বোটানিক্যাল গার্ডেনে যাওয়ার পথে যৌন নির্যাতনের শিকার হন এক ছাত্রী। পাঁচ তরুণ তাকে বেঁধে বিবস্ত্র করে মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা এক বন্ধু প্রতিবাদ করলে তাকেও মারধর করা হয়। এ ঘটনায় বুধবার নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ১০ ধারায় মামলা করেন ভুক্তভোগী। এতে অজ্ঞাতনামা পাঁচজনকে আসামি করা হয়।
এই ঘটনায় নানা আলোচনার মধ্যে গত ১৯ জুলাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের আবাসিক হলে রাত ১০টার মধ্যে হলে প্রবেশের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এদিকে বুধবার মধ্যরাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন হলের ছাত্রীরা।
এ ঘটনায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে হেনস্তার ঘটনায় চবি প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। চবি ছাত্রলীগ সভাপতি রেজাউল হক রুবেলকে এ ঘটনায় তিন দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেয় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি।