চাঁদ থেকে আনা মাটি ভেদ করে এ প্রথম চারাগাছ গজালো। বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো চাঁদ থেকে আনা মাটিতে বীজ থেকে চারা গজাতে সক্ষম হয়েছেন। তবে এই গাছ পৃথিবীর মাটির তুলনায় একটু ধীরগতিতে বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা ঘটালেন এ যুগান্তকারী ঘটনা। ১৯৬৯ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত অ্যাপোলো ১১, ১২ ও ১৭ মিশনে চাঁদ থেকে সংগ্রহ করা মাটিতে অ্যারাবাইডোপসিস নামের একটি গুল্মের বীজ থেকে চারা গজিয়েছে। খবর বিবিসির।
এ এক্সপেরিমেন্ট করেছেন মহাকাশে গাছের বৃদ্ধি নিয়ে গবেষণার জন্য খ্যাত আইএফএএস-এর বিজ্ঞানী অ্যানা-লিসা পল ও রব ফার্ল। তারাই নাসার কাছ থেকে ধার হিসেবে ১২ গ্রাম চাঁদের মাটি নিয়েছিলেন। এরপর একটি প্লাস্টিকের ট্রেতে এক গ্রাম করে মাটি ভাগ করে রাখেন। তাতে বীজ দেওয়ার পর তারা পানি ও কিছু পুষ্টি উপাদান যোগ করেন। তাতেই ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠে চারাগুলো।
তবে চারাগুলো বেড়ে উঠেছে বেশ ধীরে। এর কারণ ব্যাখ্যা করে পল জানালেন, ‘চারাগুলো চাঁদের মাটির সঙ্গে সহজে খাপ খাওয়াতে পারেনি।’
‘নাসার ভবিষ্যতের মানব-মিশনগুলোর জন্য এ গবেষণা খুব গুরুত্বপূর্ণ। মহাকাশে গবেষণা চালানোর জন্য নভোচারীদের খাদ্য উৎপাদনে মঙ্গল কিংবা চাঁদের উপাদানের দিকেই নজর দিতে হবে।’ বিবিসিকে এমনটা জানালেন নাসার প্রধান বিল নেলসন।
পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদ নিয়ে বহুদিন ধরেই গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা। চাঁদে বসবাস সম্ভব কি না সেই বিষয়েও গবেষণা চলছে। পৃথিবীর বাইরে কোথাও বসতি গড়তে হলে সেখানে অনেক কিছুরই প্রয়োজন হবে। তার মধ্যে সবার আগে দরকার হবে অক্সিজেন।
এতদিন বিজ্ঞানীরা বলে আসছিলেন, চাঁদের মাটিতে গাছ জন্মানো একেবারেই অসম্ভব। কারণ চাঁদের মাটি গাছ জন্মানোর মতো ঊর্বর নয়। কিন্তু সে কথা যে সত্যি নয়, তা এখন প্রমাণিত হলো। নাসার কয়েকজন বিজ্ঞানী দেখালেন, চাঁদের মাটিতে গাছ জন্মানো এবং বেঁচে থাকা সম্ভব।
উল্লেখ্য, নাসা এ পর্যন্ত চাঁদ থেকে বিভিন্ন অভিযানে ৩৮২ কেজি নুড়ি, পাথর, বালি-মাটি সংগ্রহ করেছে। সর্বশেষ ১৯৭২ সালের পর আর চাঁদে কোনও অভিযান চালায়নি নাসা। তবে ২০২৫ সালে আবারও চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা আছে সংস্থাটির।