চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মিলেছে সালফারের সন্ধান। সালফারের পাশাপাশি অ্যালুমিনিয়াম, ক্যালসিয়াম, লোহা, ক্রোমিয়াম, টাইটেনিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, সিলিকন, অক্সিজেনের অস্তিত্বও পাওয়া গেছে। এখন চলছে হাইড্রোজেনের খোঁজ। মঙ্গলবার (২৯শে আগস্ট) রাতে এই খবর নিশ্চিত করেছে ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা -ইসরো।

মহাকাশ গবেষণা সংস্থা জানিয়েছে, চাঁদে অবতরণের পর থেকে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে প্রজ্ঞান। বর্তমানে এটির গতিবেগ সেকেন্ডে এক সেন্টিমিটার।

গত ২৪ আগস্ট ভোরে ল্যান্ডার বিক্রম থেকে নেমে এসেছিল রোভার প্রজ্ঞান। তারপর থেকে ছয়চাকা বিশিষ্ট এই যান চাঁদে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। ইসরো এক্স হ্যান্ডেলে জানিয়েছে, চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অ্যালুমিনিয়াম, ক্যালশিয়াম, লোহা, ক্রোমিয়াম, টাইটেনিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, সিলিকন, অক্সিজেনের যে অস্তিত্ব মিলবে, তা প্রত্যাশিতই ছিল। এবার হাইড্রোজেনের খোঁজ চলছে।

প্রজ্ঞানে রয়েছে লেজ়ার-ইনডিউসড ব্রেকডাউন স্পেক্ট্রোস্কোপ (এলআইবিএস)। নমুনা সংগ্রহ করে তা লেজ়ার প্রযুক্তির মাধ্যমে পরীক্ষা করে এই প্রযুক্তি। বেঙ্গালুরুর ইসরোতে ইলেক্ট্রো-অপটিকস সিস্টেমের গবেষণাগারে এই প্রযুক্তি তৈরি করা হয়েছে। এলআইবিএসের মাধ্যমেই চাঁদের বুকে সালফার-সহ বেশ কিছু খনিজের সন্ধ্যান পেল প্রজ্ঞান।

চাঁদের মাটিতে ছয়দিন কাটিয়েছে প্রজ্ঞান। চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে যে অংশে ল্যান্ডার বিক্রম অবতরণ করেছে। আগে অন্য কোনো দেশ সেখানে মহাকাশযান পাঠাতে পারেনি। ওই এলাকাটি পৃথিবীর বিজ্ঞানীদের কাছে অজানা।

প্রজ্ঞান যে তথ্য পাঠাচ্ছে, তা চাঁদ নিয়ে গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বুধবার (২৩ আগস্ট) ঠিক সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে চাঁদের মাটিতে পা রেখেছিল তৃতীয় চন্দ্রযানের ল্যান্ডার বিক্রম। পাখির পালকের মতো অবতরণ (সফ্‌ট ল্যান্ডিং) করেছিল ল্যান্ডারটি। এর আগে কেউ কখনো করতে পারেনি। অবতরণের কয়েক ঘণ্টা পরে বিক্রমের পেট থেকে দরজা খুলে বেরিয়ে আসে প্রজ্ঞান। তার গতিবেগ সেকেন্ডে এক সেন্টিমিটার মাত্র।