টানা কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি থাকার পরেও সুস্থ না হওয়ায় ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়িকা পরীমণির ছেলে পদ্মকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আজ বিকেল ৫টার ফ্লাইটে সন্তানকে নিয়ে কলকাতায় গেছেন পরী।
পরীমণির পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে,কদিন আগেই পরীমণির পুরো পরিবার ফুড পয়জনিংয়ের শিকার হয়েছিল। এ ঘটনার ৭ দিন পরেও এখনও সুস্থ হয়ে উঠেনি পদ্ম। এছাড়াও শরীরে দুইটি ভাইরাস ধরা পড়েছে। সেজন্যই ছেলেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতায় নিয়ে গেছেন তিনি।
এর আগে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ফেসবুকে এক পোস্টে পরী লিখেছিলেন,’বরিশাল থেকে ফেরার পথে একটা ফলের দোকান থেকে কিছু ফল কিনেছিলাম। বাসায় ফল খাওয়ার আগে রেগুলার যেভাবে ক্লিন করা হয় সেভাবে না করেই শুধু মিনারেল ওয়াটার দিয়ে ধুয়ে খেয়েছিলাম। বাবু খুবই অল্প পরিমাণ মানে দুই একটা বাইট নিয়েছিল। ব্যস! বাচ্চা, আমি, আমার গাড়িচালকসহ আমার বাসার মোট পাঁচ জন ফুড পয়জনিং নিয়ে ১১ তারিখ রাত থেকে হসপিটালে। সবাই মোটামুটি রিকভার করলেও পুণ্য (রাজ্য) এখনও হসপিটালাইজড !’
পরী আরও লিখেছিলেন, ‘নানু বাড়ি থেকে ভীষণ রকম গুড এনার্জি নিয়ে ফিরেছিলাম। জমে থাকা কাজগুলো একটানা শেষ করবো ভাবছিলাম। গতকাল আমার ওয়েব ফিল্ম কাগজের বৌ এর প্রেস মিট ও প্রিমিয়ার ছিলো এফডিসিতে। থাকতে পারিনি। স্বাভাবিকভাবেই মন খারাপ হচ্ছিল খুব।’
এ সময় বাইরের খাবার খাওয়ার সময় সতর্ক থাকারও পরামর্শ দিয়েছিলেন অভিনেত্রী। লিখেছিলেন, ‘শীতকালে সবাই খাবার দাবার বুঝে খাবেন। বিশেষ করে বাইরের খাবার। এত ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস শীতের সময় এসব থেকে নিরাপদ থাকা মুশকিল।’
পদ্মকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য পরীমণির ভারতযাত্রার বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমেও জানিয়েছেন চয়নিকা। সেখানে লেখেন, ‘এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে ছেলের চিকিৎসার জন্য সরাসরি কলকাতার পথে পরীমণি। পদ্ম খুব খুব অসুস্থ। তার দুইটা ভাইরাস ধরা পড়েছে। পরীও পুরোপুরি সুস্থ না। কিন্ত কিছুই করার নেই।
এরপর পদ্মর জন্য দোয়া চেয়ে চয়নিকা চৌধুরী লেখেন, ‘আপনারা সবাই পদ্মর জন্য পরীর জন্য দোয়া করবেন। যেন আমাদের আদরের বাচ্চাটা সুস্থ হয়ে ফিরে আসে। পদ্ম খুব কষ্ট পাচ্ছিল।’
পরীর এই দুর্দিনে ভিসাজনিত জটিলতায় সঙ্গী হতে পারেননি চয়নিকা। বিষয়টি পোড়াচ্ছে তাকে। তিনি পরীর উদ্দেশে লিখেছেন, ‘ইন্ডিয়ান ভিসা থাকলে সত্যি তোমার আর পুন্য/পদ্ম (দুই নামেই ডাকা হয় পরীমণির ছেলেকে) এর পথের সাথী হতাম, আমাকে বলতে হতো না। তুমি তা জানো। আমি জানি, আমি সঙ্গে গেলে তোমার অনেক রিলিফ লাগত। তোমাকেও এইভাবে ছেড়ে দিতে আমার ভালো লাগেনি। অনেক কান্না পাচ্ছে তোমাদের এয়ারপোর্টে বিদায় দেওয়ার সময়।’
এরপর পরীকে যোদ্ধা সম্বোধন করে লিখেছেন, ‘পরী,আমি জানি তুমি ফাইটার। তুমি অনেক বুদ্ধিমতী,তুমি অনেক ধৈর্যশীলা মানুষ। তুমি একাই সব পারবে। আমি শিওর। তুমি জয়ী হয়েই আসবে। তোমার ছেলে বড় হয়ে তোমার এই জীবনের গল্প মনে রাখবে আর প্রাউড ফিল করবে। মা এত্ত ভালোবাসা আর আশীর্বাদ তোমার আর পদ্মর জন্যে। সাবধানে থেকো। তোমার শুভাকাঙ্ক্ষীরা তোমার সাথে সবসময় আছে,থাকবে।’