বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী খালিদ মারা গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাহিউন। তিনি ‘চাইম’ ব্যান্ডের ভোকালিস্ট ছিলেন।
আজ সোমবার (১৮ই মার্চ) সন্ধ্যায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে রাজধানীর গ্রিন রোডের একটি হাসপাতালে নেয়া হয় তাকে। হাসপাতালে নেয়ার পরপরই চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। কয়েক বছর ধরেই হৃদরোগে ভুগছিলেন তিনি, একাধিকবার নিয়েছেন চিকিৎসাও। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৫৯ বছর।
চার দশকেরও বেশি সময়ের সংগীত ক্যারিয়ারে অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন খালিদ। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজধানীতে জানাজা শেষে জন্মস্থান গোপালগঞ্জে নেয়া হবে মরদেহ। সেখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে তাকে।
হাসপাতালে উপস্থিত সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার ঈশা খান দূরে ও সাংবাদিক তানভীর তারেক জানান, খালিদকে গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জে নেওয়া হবে। সেখানে নামাজে জানাজা শেষে আগামীকাল মঙ্গলবার তাকে দাফন করা হবে।
খালিদের এক সন্তান। তার স্ত্রী শামীমা জামান সন্তানসহ নিউ ইয়র্কে আছেন। সেখানে বসেই জেনেছেন জীবনসঙ্গী হারানোর কথা।
আশির দশকের প্রথম দিকে জনপ্রিয় ব্যান্ড চাইমের মাধ্যমে সঙ্গীতাঙ্গনে প্রবেশ করেন খালিদ। ব্যান্ডটির হয়ে বেশ কিছু অ্যালবামে গেয়েছেন তিনি। পরবর্তীতে নব্বই দশকে সলো ক্যারিয়ারেও সফলতা পান।
‘সরলতার প্রতিমা’, ‘যতটা মেঘ হলে বৃষ্টি নামে’, ‘কোনো কারণে ফেরানো গেল না তাকে’, ‘হয়নি যাবারও বেলা’, ‘যদি হিমালয় হয়ে দুঃখ আসে’, ‘তুমি নেই তাই’, ‘নাতি খাতি বেলা গেল’, ‘কীর্তনখোলা নদী’, ‘ঘুমাও’– এর মতো বহু জনপ্রিয় গানে কণ্ঠ দিয়েছেন খালিদ।
প্রিন্স মাহমুদ, জুয়েল-বাবুর সুরে তার গানগুলো শ্রোতাদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে আগেই। তবে ২০১০ পরবর্তী সময়গুলোতে গানে অনিয়মিত ছিলেন খালিদ। দেশ ছেড়ে পাড়ি জমান নিউ ইয়র্কে। সম্প্রতি তিনি ঢাকায় এসেছিলেন। জনপ্রিয় এই শিল্পীর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে শোবিজ অঙ্গনে।