দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ নিউজিল্যান্ডে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় গ্যাব্রিয়েলা। ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে বাড়ি-ঘর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
ঘূণিঝড় ও ভারি বৃষ্টির কারণে বন্যার কবলে বহু মানুষ। কয়েক হাজার মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে বন্যাদুর্গত এলাকাগুলোতে। দেশটির জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী কিয়েরান ম্যাকঅ্যানাল্টি জানিয়েছেন, প্রচন্ড বাতাস ও ভারি বর্ষণের কারণে ‘অনেক খারাপ পরিস্থিতি’ তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দেশটির প্রধানমন্ত্রী ক্রিস হিপকিন্স জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে উল্লেখ করেন, ‘এটি একটি দুর্যোগময় রাত ছিল, উত্তরে অনেক পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছেন। অনেক বাড়িঘর বিদ্যুৎহীন হয়ে গেছে, দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।’
স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, ঝড়ের আঘাতে অনেক গাছপালা উপড়ে গেছে। রাস্তা-ঘাটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বিদ্যুতের লাইন ভেঙে পড়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী ম্যাকআন্টলি বলেছেন, ‘এটি বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়। যা সত্যিকার অর্থে নিউজিল্যান্ডের মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলেছে।’
তিনি জানিয়েছেন, মঙ্গলবারও পুরো দেশে বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া অব্যাহত থাকবে। যার কারণে জরুরি পরিষেবা সংস্থাগুলোর সেবা ব্যহত হবে।
নিউজিল্যান্ডের ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, পূর্ব অকল্যান্ডে একটি বাড়ি ধসে পড়ে একজন ফায়ারকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। অপর এক কর্মী নিখোঁজ আছেন। হয়তবা বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়ে আছেন তিনি।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে নিউজিল্যান্ডে বিমান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে মঙ্গলবার থেকে আবার বিমান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রয়াত্ত বিমান সংস্থা এয়ার নিউজিল্যান্ড।