ভারত থেকে আসা ঢল ও টানা বৃষ্টিতে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার কবলে ফেনী-নোয়াখালীসহ দেশের আট জেলা। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে হচ্ছে। মানবিক বিপর্যয়ের কবলে পড়েছে এসব জেলার মানুষ। পরিস্থিতি এমন যে আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ারও সুযোগ নেই। এসব জেলায় অন্তত সাড়ে ১৮ লাখ মানুষ বিপদগ্রস্ত। সাধ্য অনুযায়ী উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে বিভিন্ন সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবীরা।

ভারি বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বেড়ে চলেছে  বিভিন্ন জায়গার নদীর পানি। এসব নদীর পানি সবগুলো পয়েন্টেই বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। এতে প্লাবিত হচ্ছে নিুাঞ্চলগুলো।

ভয়াবহ বন্যায় নোয়াখালীর ৮টি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন জেলার ২২ লাখ মানুষ। জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলায় বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে ৮৭ ইউনিয়ন। স্থাপন করা হয়েছে ৩৪৫টি আশ্রয়কেন্দ্র। যাতে আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় ২০ হাজার মানুষ। ইতোমধ্যে গঠন করা হয়েছে ৮৮টি মেডিকেল টিম।

বন্যায় ফেণীর ফুলগাজী, পরশুরাম এবং ছাগলনাইয়ার প্রায় ৯৫ শতাংশ এলাকা পানিতে ডুবে গেছে। বন্ধ রয়েছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা, নেই বিদ্যুৎ সংযোগ। সেনা ও কোস্টগার্ডের ২৪টি বোট উদ্ধার কাজে নিয়োজিত রয়েছে।

কুমিল্লার গোমতী নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার চৌদ্দগ্রাম ও নাঙ্গলকোট উপজেলার নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানি ঢুকেছে বাড়ি ঘর, মাছের ঘের ও বিভিন্ন প্রজেক্টে। এছাড়া নগরীর চকবাজার, কান্দিরপাড়, সালাউদ্দিন মোড়,চর্থা, ঠাকুরপাড়া, ডিসি রোড, বাগিচগাঁওসহ বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

মৌলভীবাজারে মনু, ধলাই সহ সবকটি নদ নদীর পানি বইছে বিপদ সীমার উপর দিয়ে। এসব উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়নের বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে।

পানি বন্দি লোকদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি মাঠে নেমেছে বিজিবি ৪৬ ব্যাটালিয়ন।

হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর পানি সবগুলো পয়েন্টেই বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। এতে শহরতলীর জালালাবাদ এলাকার বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করছে।

লালমনিরহাটে তিস্তায় পানি বাড়তে থাকায় সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের হরিনচড়া গ্রামে নদীভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। গত দুইদিনের নদীভাঙ্গনে ২১টি বসতভিটা ভেঙ্গে গেছে। ভাঙ্গন হুমকিতে রয়েছে আরো শতাধিক পরিবার। নদীগর্ভে চলে গেছে ৩শবিঘা জমির ধান সবজী সহ ফসলের ক্ষেত।

চট্টগ্রামে মধ্যরাত থেকে ভারী বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে নগরীর বিভিন্ন এলাকা। কোথাও কোথাও কোমর পানি, কোথাও হাঁটু পানিতে তলিয়ে গেছে নগরীর বহাদ্দার হাট, বাদুরতলা, চকবাজার, কাপাসগোলা, মুরাদপুর, বাকলিয়া, প্রবর্তক মোড়, আগ্রাবাদ, সিডিএ, হালিশহর সহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও অলিগলি।

খাগড়াছড়িতে বন্যায় প্লাবিত অন্তত ৬০ টি গ্রামের মানুষ। অবিরত বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি সদর জোনের  রেস্কিউ টিম বন্যা কবলিত এলাকায় উদ্ধার কাজ করছে।