বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে জুলাই ও আগস্টে উত্তরায় শিক্ষার্থী শাকিব হত্যায় সাবেক প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আরও একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ৮টি অভিযোগ দায়ের করা হলো।

এর আগে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর ১৫ সেপ্টেম্বর পাঁচটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। এতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ঘিরে জুলাই ও আগস্টে চালানো হত্যা, গণহত্যা ও নির্যাতনের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২২৭ আসামির বিরুদ্ধে আরও ৫ অভিযোগ দায়ের হয়।

প্রথম অভিযোগ বলা হয়, ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের ওপর গত ২০ জুলাই সকালে গুলি করে কলেজছাত্র শহীদ নুরে আলম সিদ্দিকী রাকিব ও শহীদ জুবায়েরকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ৬৫ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। রাকিবের বাবা আব্দুল হালিম ও জুবায়েরের বাবা আনোয়ার উদ্দিন অভিযোগ দায়ের করেন।

দ্বিতীয় অভিযোগ, বাড্ডায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ১৯ জুলাই সন্ধ্যায় একাদশ শ্রেণির ছাত্র মো. মারুফ হোসেনকে (১৯) পুলিশ গুলি করে হত্যা করে। এ অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ২৮ জনকে আসামি করে অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগটি দায়ের করেন মারুফের বাবা মোহাম্মদ ইদ্রিস।

তৃতীয় অভিযোগ, উত্তরা আব্দুল্লাহপুর এলাকায় এইচএসসি পরীক্ষার্থী শহীদ ফয়সাল সরকারকে ১৯ জুলাই বিকেলে (গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা) গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন ভিকটিমের পিতা শফিকুল ইসলাম সরকার।

চতুর্থ অভিযোগ, মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় ১৯ জুলাই বিকেলে দশম শ্রেণির ছাত্র শহীদ মাহফুজুর রহমানকে (১৫) গুলি করে হত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ৭৬ জনকে আসামি করে অভিযোগ করা হয়। অভিযোগটি দায়ের করেন ভিকটিমের পিতা আব্দুল মান্নান।

পঞ্চম অভিযোগে বলা হয়, উত্তরার আজমপুরে ৫ আগস্ট বিকেলে ফুটওভারব্রিজের পূর্ব পাশে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র শহীদ সামিউ আমান নুরকে (১৩) গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ৫৮ জনকে আসামি করে অভিযোগ করা হয়। অভিযোগটি দায়ের করেন নুরের পিতা মোহাম্মদ আমানুল্লাহ।

এছাড়াও গত বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আশুলিয়ায় ভ্যান গাড়িতে ৬ জনের মরদেহ পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় দুইটি অভিযোগ দায়ের করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায়।