মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা ব্যাপকভিত্তিক বিশ্বব্যাপী শুল্ক আরোপকে অবৈধ বলে রায় দিয়েছে। এটিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের অর্থনৈতিক এজেন্ডার মূল নীতির ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ৬-৩ ভোটে এই রায় দেয়। রায়ে বলা হয়েছে, ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ) প্রেসিডেন্টকে এমন কোনও ক্ষমতা দেয় না, যার মাধ্যমে তিনি এককভাবে শুল্ক আরোপ করতে পারেন।

বিচারপতি রবার্টস তার পর্যবেক্ষণে বলেছেন, প্রেসিডেন্টকে অবশ্যই কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অনুমোদনের প্রমাণ দিতে হবে, যা তিনি পারেননি।

শুক্রবার আদালত উল্লেখ করেছে যে, ‘কংগ্রেস যদি আইইইপিএ-র মাধ্যমে শুল্ক আরোপের মতো সুনির্দিষ্ট এবং অসাধারণ ক্ষমতা প্রদানের ইচ্ছা পোষণ করত, তবে অন্যান্য শুল্ক বিধির মতো এখানেও তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করত।’ সুপ্রিম কোর্টের তিনজন উদারপন্থি বিচারক অন্য তিনজন রক্ষণশীল বিচারকের সঙ্গে একমত হয়ে এই রায় দেন। এর মাধ্যমে নিম্ন আদালতের সেই সিদ্ধান্তই বহাল রইল যেখানে বলা হয়েছিল যে, আইইইপিএ-র অধীনে ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কগুলো অবৈধ ছিল।

রক্ষণশীল বিচারক ব্রেট কাভানো, ক্ল্যারেন্স থমাস এবং স্যামুয়েল আলিটো এই রায়ের বিপক্ষে ভিন্নমত পোষণ করেন।

২০২৫ সালের শুরুতে ক্ষমতা গ্রহণের পর ট্রাম্প চীন, কানাডা ও মেক্সিকোসহ প্রায় সব দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিলেন। একে তিনি ‘লিবারেশন ডে’ ট্যারিফ হিসেবে অভিহিত করেন। পেন-ওয়ার্টন বাজেট মডেলের অর্থনীতিবিদদের মতে, এই আইনের অধীনে এ পর্যন্ত ১৭৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি শুল্ক সংগ্রহ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে এখন ব্যবসায়ীদের এই বিশাল অংকের অর্থ ফেরত দিতে হতে পারে।

ট্রাম্প এই শুল্ককে মার্কিন অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য বলে বর্ণনা করে আসছিলেন। তার মতে, এই শুল্ক না থাকলে বিশ্বের বাকি দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে ‘হাসাহাসি’ করত। তবে আদালতের রায়ের পর তিনি বিকল্প ব্যবস্থার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এর আগে নভেম্বরেই তিনি বলেছিলেন, আদালতের রায় বিপক্ষে গেলে তার কাছে ‘গেম টু’ বা বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি রয়েছে।

প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা এখন অন্য কিছু আইনের আশ্রয় নেবেন। এর মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে শুল্ক আরোপের ধারা এবং বিদেশি ‘অন্যায্য’ বাণিজ্য নীতির বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার সুযোগ নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।

ট্রাম্পের এই শুল্ক যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্ররাও ক্ষুব্ধ ছিল। ১২টি অঙ্গরাজ্য এবং বহু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এই শুল্কের বিরুদ্ধে আদালতে গিয়েছিল।

ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বোন্টা জানিয়েছেন, এই শুল্কের কারণে কেবল তার রাজ্যেই ২৫ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি এবং ৬৪ হাজার মানুষ কর্মহীন হওয়ার ঝুঁকিতে ছিলেন।