বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে চার দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগেল ওয়াংচুক। রাজার সঙ্গে রানি এবং রাজ পরিবারের সদস্যরাও বাংলাদেশে এসেছেন।
সোমবার (২৫ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকায় আসেন রাজা জিগমে খেসার। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে রাজাকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এসময় রাজাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
ভুটানের রাজাকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাগত জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। ভুটানের রানী, তাঁর পরিবারের সদস্য, ভুটানের সরকারের মন্ত্রী ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ভুটানের রাজার সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন। বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটাই প্রথম কোনো ভিভিআইপির সফর।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ভুটানের রাজার সফরে দুদেশের মধ্যে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি নবায়ন হবে। বাংলাদেশে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে বিনিয়োগের জন্য কুড়িগ্রামে ভুটানকে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
রাজার এই সফরে এ বিষয়ে একটি চূড়ান্ত চুক্তি সই হবে। এছাড়া ভুটানের একটি হাসপাতালে বার্ন ইউনিট করে দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এই সফরে নেয়া হবে।
সফরের দ্বিতীয় দিন ২৬ শে মার্চ ভোরে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন রাজা নামগিয়েল ওয়াংচুক। সেখান থেকে ফিরে শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করবেন তিনি। এছাড়া বিকেলে যোগ দেবেন বঙ্গভবনের আনুষ্ঠানিকতায়।
২৭ শে মার্চ সকালে ভুটানের রাজা পদ্মা সেতু পরিদর্শনে যাবেন। সেখান থেকে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জাপান-বাংলাদেশ যৌথ ব্যবস্থাপনার বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করবেন তিনি। ঢাকায় ফিরে বিকেলে বসবেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে।
সফরের শেষ দিন ২৮ শে মার্চ বিমানে সৈয়দপুর যাবেন রাজা। সেখান থেকে সড়কপথে কুড়িগ্রামের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করবেন তিনি। আঞ্চলিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা বাংলাদেশের টার্গেট এই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলটি ভুটানি বিনিয়োগের জন্য ছেড়ে দেয়া। এটি বাস্তবায়িত হলে ভুটানের সীমান্ত শহর ফুন্টসলিংয়ের সঙ্গে স্থলপথে যোগাযোগ স্থাপিত হবে। খুলে যাবে ত্রিদেশীয় বাণিজ্যের নতুন দুয়ার। ওই দিন বিকেলেই বাংলাদেশের সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের আসাম হয়ে ভুটান ফিরে যাবেন রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক।