তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুশিঁয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। বুধবার (১৫ নভেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যে কোন ধরণের অরাজকতা মোকাবেলায় যথেষ্ট সক্ষম। ভোট পাবে না জেনেই বিএনপি নির্বাচনে যাচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী যথেষ্ট প্রস্তুত রয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী তার কাজটি করছে। অনেক পেশাদার নিরাপত্তা বাহিনী। আপনারা দেখেছেন ২৮ অক্টোবর পুলিশকে পিটিয়ে- পিটিয়ে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আনসারকে মারলো, পুলিশকে মারলো, পুলিশ চরম ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করেছে। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী অত্যন্ত দক্ষ। তারা যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে, আমরা সেভাবেই আমাদের পুলিশ বাহিনীকে তৈরি করেছি। নির্বাচন ঘোষণা হয়ে গেলে পুলিশ বাহিনী নির্বাচন কমিশনের অধীনে গিয়ে একটা সুন্দর নির্বাচন জাতিকে উপহার দেবে।
এই নির্বাচন নিয়ে দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তি দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়েছে। বিএনপি ও তার মিত্ররা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ২০১৩ সালের মতোই টানা অবরোধ কর্মসূচি ডেকে যাচ্ছে। দাবি পূরণ না হলে ভোটে না আসা, এমনকি ভোট হতে না দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে তারা। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনও এমন একটি বিরুদ্ধ পরিবেশে হয়েছিল। সে সময় ব্যাপক সহিংসতার মধ্য দিয়ে ৫ জানুয়ারি ভোট হয়েছিল। তার আগেই অবশ্য দেড়শরও বেশি আসনে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে গিয়েছিলেন।
সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণে সিইসি ৭ জানুয়ারি ভোটের তারিখ দিয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন।
তখনও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি অগ্রাহ্য করেছিল, এখনও একই অবস্থানে আছে তারা। দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তির এই বিভেদে দেশে ‘গৃহযুদ্ধ’ বেধে যাবে কি না- এমন প্রশ্ন রাখেন একজন আলেম।
জবাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, “গৃহযুদ্ধের আশঙ্কাই নেই। সংখ্যায় যদি ১ আর ৯৯ হয় তাহলে গৃহযুদ্ধ লাগে? গৃহযুদ্ধ লাগে ৫০-৫০ হলে। গৃহযুদ্ধ লাগার কোনো আশঙ্কা নেই।”
তফসিল প্রত্যাখ্যান করে বিএনপি ‘জ্বালাও-পোড়াওয়ের চেষ্টা করলে’ তা মোকাবেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, “আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী অত্যন্ত দক্ষ এবং তারা যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারে, আমরা সেইভাবেই আমরা আমাদের পুলিশ বাহিনীকে তৈরি করেছি।… পুলিশ বাহিনী নির্বাচন কমিশনের অধীনে গিয়ে একটা সুন্দর নির্বাচন জাতিকে উপহার দেবে।”
তফসিল ঘোষণার পর বিএনপি লাগাতার হরতাল কর্মসূচি দিতে পারে জানিয়ে একজন সাংবাদিক এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
জবাবে তিনি বলেন, “বিএনপি একটি রাজনৈতিক দল। তারা ১৪, ১৫ তে ‘অগ্নিসন্ত্রাস’ করেছে, ‘জঙ্গির উত্থান’ ঘটিয়েছিল, ২১ অগাস্ট গ্রেনেড দিয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। অনেক কর্মকাণ্ড এখানে হয়েছে। সিরিজ বোমা হামলা হয়েছিল।
“জনগণকে জিম্মি করে কখনও পোড়াচ্ছে, কখনও ভাঙচুর করছে, কখনও আমাদের পুলিশ হত্যা করছে, কখনও আবার আনসার হত্যা করছে, কখনওবা প্রধান বিচারপতির বাসায় ঢুকে ভাঙচুর করছে, কখনও হাসপাতলে ভাঙচুর করছে। এসব করছে কারণ তারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ইলেকশন আসলে নিশ্চয়ই তো তারা জিততে পারবে না। সে জন্যই তাদের এ ধরনের অবস্থানে তারা যাচ্ছে।”
‘সহিংসতা করে’ বিরোধী দল কোনো কিছুই অর্জন করতে পারবে না বলেও মনে করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমরা যেটা বলতে চাই আওয়ামী লীগ এবং অন্যান্য দল সবাই মনে করে যে জনগণের ম্যান্ডেলটাই হল আসল। ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে কিংবা ভাঙচুরের মাধ্যমে মানুষকে কষ্ট দেওয়া যায়, একটা ঘটনা ঘটানো যায়, কিন্তু মানুষের মন জয় করা যায় না।”
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে গত ২৮ অক্টোবর নয়া পল্টনে বিএনপির সমাবেশের অদূতে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, “পুলিশ চরম ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছে।”