বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জোবায়দা রহমানকে সাজা দেওয়ায় কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।বুধবার (২ আগস্ট) বিকেলে বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, তারেক রহমান ও জোবায়দা রহমানের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণার প্রতিবাদে ঢাকা ছাড়া বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) সারাদেশে মহানগর ও জেলা শহরে সমাবেশ করবে ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল।

তিনি বলেন, আগামী শুক্রবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করা হবে।

যদিও বিএনপির পক্ষ থেকে এই রায়ের প্রতিবাদ জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলন করলেও সেখান থেকে কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করেননি।

নয়াপল্টনে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল শেষে আয়োজিত সমাবেশে আবদুস সালামের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন— বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলু, বিএনপির যুগ্ম সচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শেখ হাসিনার নির্দেশে বিচারকরা তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে যে ফরমায়েশি রায় দিয়েছেন তা কালবৈশাখী ঝড়ে উড়ে যাবে।

তিনি বলেন, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই রায় দেওয়া হয়েছে।

বিএনপি এত টাকা কোথায় পায়- প্রধানমন্ত্রীর এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভী উল্টো প্রশ্ন রেখে বলেন, ধানমন্ডিতে ভবন, গুলিস্তানে আলোকসজ্জিত ১০তলা যে ভবন (আওয়ামী লীগ অফিস) তৈরি করেছেন সে টাকা কোথায় পেয়েছেন? এছাড়া আজকের রংপুরের সমাবেশে এক হাজার টাকা করে দিয়ে লোক আনা হয়েছে, এই টাকা কোথায় পেলেন?

তিনি বলেন, তারেক রহমান ও জুবাইদার বিরুদ্ধে যে রায় দেওয়া হয়েছে তা দেশের জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। জনগণের তীব্র আন্দোলনের মুখে এরাই কালবৈশাখী ঝড়ের মতো উড়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির সমাবেশে জনতার ঢল দেখে শেখ হাসিনা ভয়ে এ রায় দিতে বাধ্য করেছে।

সমাবেশে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, দেশের গণতন্ত্র নিয়ন্ত্রণের কারণে শেখ হাসিনার বিচার হবে একদিন এই দেশের মাটিতে। শেখ হাসিনাকে হটিয়ে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে।

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের দায়ে আজ বুধবার তারেক রহমানকে ৯ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আদালত তারেকের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ২ কোটি ৭৪ লাখ ৯৩ হাজার ৮৭ টাকার সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া তারেককে ৩ কোটি টাকা ও জুবাইদাকে ৩৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।