তুষার চাদরে ঢাকা পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্য। বম্ব সাইক্লোনের কারণে দেশটিতে গত কয়েকদিনের তুষারপাত ও হিমশীতল ঠাণ্ডায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২ জনে। এরমধ্যে নিউইয়র্কের বাফেলো এলাকায় সবচেয়ে বেশি ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার বাতিল করা হয়েছে ৪ হাজার ৮০০ ফ্লাইট। এদিকে, টানা কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টি থেকে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে ফিলিপাইনে ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বেশ কয়েকজন।
টানা কয়েকদিনের তুষারঝড়ে স্থবির যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলের জনজীবন। কিছু কিছু এলাকার পরিস্থিতি ভয়াবহ। কোথাও কোথাও আট ফুট পর্যন্ত তুষারপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রাস্তায় পুরু তুষারের আস্তরণ জমেছে। এতে সড়কে আটকা পড়েছে বহু যানবাহন। গাড়ির ভেতর ও তুষারের আস্তরণের নিচ থেকে মিলছে মরদেহ।
তুষারঝড়ে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নিউইয়র্কের বাফেলো শহর। বেশি প্রাণহানি হয়েছে শহরটির এরি কাউন্টিতে। সেখানে যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। রাস্তাঘাট পরিষ্কার, গাড়ি উদ্ধার এবং পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার কাজে নেমেছে দেশটির সেনাবাহিনী। তবে জরুরি অবস্থা চলাকালেও অঞ্চলটিতে লুটপাটের অভিযোগ মিলেছে।
তুষারপাতের কারণে মঙ্গলবার ৪ হাজার ৮০০ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে দেশটিতে। সারাদেশের বিমানবন্দরগুলোতে হাজার হাজার যাত্রী আটকা পড়েছে। এখনও বিদ্যুৎহীন বহু মানুষ। তবে কিছুটা তুষারপাত কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।
যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি কানাডাতেও তুষারপাত অব্যাহত রয়েছে। অন্টারিও ও কুইবেকের হাজার হাজার মানুষ এখনো বিদ্যুৎহীন রয়েছেন। তুষারপাতের কারণে ট্রেন যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, টানা কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টি থেকে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে ফিলিপাইনের ৯টি প্রদেশে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ভারতের আসাম রাজ্যে ব্যাপক শিলাবৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যের দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, অসময়ে শিলাবৃষ্টির কারণে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নষ্ট হয়ে গেছে বহু ফসলি জমি।