ইংরেজি নতুন বছরকে বরণ উপলক্ষে থার্টিফাস্ট নাইটকে ঘিরে রাজধানীসহ সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ইতোমধ্যে ডিএমপির প্রতিটি থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, নির্দিষ্ট থানাধীন এলাকায় যেন কোনোভাবে থার্টিফাস্ট নাইট উপলক্ষে ফানুস বিক্রি ও উড়ানো না হয়। যদি কেউ ফানুস উড়ায় বা আতশবাজি  ফোটায় তাহলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানায় ডিএমপি। এছাড়া উন্মুক্ত স্থানে কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন না করারও আহ্বান জানিয়েছে ডিএমপি।

এদিকে, আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরদিন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা দেশের সব বার বন্ধ থাকবে। তবে সীমিত আকারে হোটেলগুলোর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠান করা যাবে।

আগেভাগেই আইনশৃঙ্খলা ও আনুষঙ্গিক বিষয় সংক্রান্ত সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, থার্টিফার্স্ট নাইটকে ঘিরে মাদকের অপব্যবহার রোধে আগামী ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১ জানুয়ারি-২৩ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা বার বন্ধ থাকবে। এদিন কোথাও কোনো উন্মুক্ত কনসার্ট আয়োজন করা যাবে না। তবে মহানগর পুলিশের অনুমতি নিয়ে কনসার্ট করা যাবে। রাস্তায় যানজট করা যাবে না। কেউ অবৈধভাবে মাদক বিক্রি করতে না পারেন, সেই ব্যবস্থা রাখা হবে। থার্টি ফার্স্ট নাইটে আতশবাজি, ভুভুজেলা, পটকা না ফোটাতে আমরা অনুরোধ রাখছি। এগুলো ফুটিয়ে জনজীবনে আতঙ্ক সৃষ্টি না করতে বলা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকবে।
ডিএমপি’র মিডিয়া বিভাগের ডিসি ফারুক হোসেন বলেন, ঢাকার পাঁচ তারকা হোটেলসহ বিভিন্ন হোটেলগুলোর বার এ বছর বন্ধ থাকবে। তারকা হোটেলগুলোকে সেই নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। রাতটি ঘিরে নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে রাজধানী। পটকা ও আতশবাজিও ফোটানো যাবে না। নিষিদ্ধ থাকছে প্রকাশ্য অস্ত্রবহন। বেপরোয়া রেসিং নিয়ন্ত্রণে মোড়ে মোড়ে থাকবে চেকপোস্ট। একইভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়ও প্রবেশে কড়াকড়ি থাকবে।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার রাতে গুলশান ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ৩১ ডিসেম্বর রাত ৮টা থেকে ১ জানুয়ারি ভোর ৫টা পর্যন্ত গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় যানবাহনযোগে প্রবেশের জন্য কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ (কাকলী ক্রসিং) ও মহাখালী আমতলী ক্রসিং ব্যবহার করা যাবে। রাত ৮টা থেকে গুলশান বনানী ও বারিধারা এলাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে মহাখালী এলাকা ও ফিনিক্স রোড ক্রসিং, বনানী ১১ নম্বর রোড, চেয়ারম্যান বাড়ি মোড়, ঢাকা গেট, শ্যুটিং ক্লাব, বাড্ডা লিংক রোড, ডিওএইচএস বারিধারা-ইউনাইটেড হাসপাতাল ক্রসিং ও নতুন বাজার ক্রসিং ব্যবহার করা যাবে না। তবে ওই এলাকা থেকে বের হওয়ার জন্য এসব ক্রসিং ব্যবহার করা যাবে।

এছাড়াও, ২১টি পয়েন্টে ডাইভারশন চলবে। সেগুলো হলো ফিনিক্স ক্রসিং, শান্তা ক্রসিং, বটতলা ক্রসিং, জিএমজি মোড়, পুরাতন আড়ং ক্রসিং, নিকেতন ক্রসিং, পুলিশ প্লাজা ক্রসিং, মসজিদ গ্যাপ, মায়াগঞ্জ ক্রসিং, বনানী চেয়ারম্যান বাড়ি মোড়, বনানী ১১ নম্বর রোড, শ্যুটিং ক্লাব ক্রসিং, ইউনাইটেড হাসপাতাল গ্যাপ, বনানী ২৩ নম্বর রোড, ঢাকা গেইট, মানারাত ক্রসিং, নতুন বাজার ক্রসিং, জাতিসংঘ গোল চত্বর, গুদারাঘাট গ্যাপ, বাড্ডা লিংক রোড ও কালাচাঁদপুর গ্যাপ।