পৌষ মাসের শুরুতেই দেখা দিয়েছে চলতি মৌসুমের প্রথম মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রাজশাহী ও চুয়াডাঙ্গা দুই অঞ্চলের ওপর দিয়ে মদুৃ শৈত্যপ্রবাহ বইয়ে যাচ্ছে। এদিকে হাড়কাঁপানো শীতে চরম বিপাকে পড়েছেন উত্তরের জনপদের মানুষ। শীতের পরশ লেগেছে রাজধানীতেও।

শুক্রবার সকাল থেকে সূর্যের দেখা মিললেও আকস্মিক তাপমাত্রা কমে যাওয়া এবং উত্তর থেকে ধেয়ে আসা হিমেল হাওয়ায় শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগবালাই। বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। শৈত্যপ্রবাহের কারণে সন্ধ্যার পর থেকে চুয়াডাঙ্গা ও রাজশাহী শহরে সাধারণ মানুষের চলাচল অনেকাংশেই কমে যায়।

এদিকে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন ছিন্নমূল মানুষ। বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া শ্রমজীবীরাও। সকালের ঘন কুয়াশায় পরিবহন চলাচলেও দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে দেখা গেছে চালকদের। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, শৈত্যপ্রবাহ আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, ‘সাগরে লঘুচাপ থাকার কারণে দেশে শীতের প্রভাব পড়তে কিছুটা দেরি হয়েছে। এখন লঘুচাপ কমে যাওয়ায় দেশের কিছু জেলায় শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। চলতি মাসের শেষ দিকে অথবা জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে দেশজুড়ে শীতের প্রকোপ বাড়তে শুরু করবে। আর আগামী দু-এক দিন রাতের তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে। পরবর্তী সময়ে দেশজুড়ে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ক্রমাগত হ্রাস পেতে থাকবে।

আজকের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শেষ রাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদীর অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। দেশজুড়ে রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পাবে। তবে আগামী সপ্তাহ থেকে দিন ও রাতের তাপমাত্রা হ্রাস পেতে শুরু করবে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া লঘুচাপটি পশ্চিম দিকে ধাবিত হওয়ায় দেশে এর কোনো প্রভাব পড়বে না।