অর্থপাচারের অভিযোগের করা মামলায় যুবলীগের কথিত নেতা আলোচিত ঠিকাদার গোলাম কিবরিয়া (জিকে) শামীমকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) এ বিষয়ে করা আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি এএসএম আব্দুল মোবিনের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, হাইকোর্টের জামিনের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে কমিশন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করবে।
আবেদনের শুনানিকালে জি কে শামীমের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক। ২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর ২৯৭ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গোলাম কিবরিয়া ওরফে জি কে শামীম ও তার মায়ের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। কিন্তু তদন্ত সংস্থা তার বিরুদ্ধে ৩০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পায়।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরলে জি কে শামীমের উত্থান হয়। তিনি নিজেকে যুবলীগ নেতা দাবি করলেও আওয়ামী লীগের এই সহযোগী সংগঠনটি তা অস্বীকার করে।
ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান চলার সময় ২০১৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে নিকেতনের বাসা থেকে শামীমকে গ্রেফতার করা হয়। ওই ভবন থেকে নগদ এক কোটি ৮১ লাখ ২৮ হাজার টাকা, ৯ হাজার ইউএস ডলার, ১৬৫ কোটি ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকার ১০টি এফডিআর, ৩২টি ব্যাংক হিসাবের চেক বই, আটটি আগ্নেয়াস্ত্র ও মদ পাওয়ার কথা জানানো হয় অভিযান শেষে।
গ্রেফতারের সময় র্যাব সদরদফতর, সচিবালয়ে ও কয়েকটি হাসপাতালের নতুন ভবনসহ অন্তত ২২টি নির্মাণ প্রকল্পের ঠিকাদারি কাজ শামীমের প্রতিষ্ঠান জিকে বিল্ডার্সের হাতে ছিল। এসব প্রকল্পের ব্যয় বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৬ হাজার কোটি টাকা। পরে সেগুলোর কার্যাদেশ বাতিল হয়। জব্দ করা হয় তার ১৯৪টি ব্যাংক হিসাব।
২১ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনে জি কে শামীমের বিরুদ্ধে মামলা করেন র্যাব-১ এর নায়েব সুবেদার মিজানুর রহমান।
মামলায় বলা হয়, শামীম তার দেহরক্ষীদের সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের টেন্ডারবাজি, মাদক ও জুয়ার ব্যবসাসহ স্থানীয় টার্মিনাল, গরুর হাট-বাজারে চাঁদাবাজি করে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থের মালিক হয়েছেন। বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশেও পাচার করেন তিনি।