পাঁকা আমের মধুর রসের স্বাদ নেয়ার অপেক্ষা প্রায় শেষ। জ্যৈষ্ঠের প্রথম সপ্তাহ নাগাদ পাকতে শুরু করবে আম। প্রথমে পাকবে গুটি আম, যা বাজারে আসতে পারে মে মাসের ১৫-২০ তারিখের মধ্যে। অন্য সব আম কোন সময়ে কোনটি পাড়া হবে, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানানোর জন্য আম সংগ্রহের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

আমের জন্য বিখ্যাত উত্তরের জেলা রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ। প্রতি বছর এসব জেলার প্রশাসন বৈঠক করে আমচাষি, ফল গবেষণা কেন্দ্রের কর্মকর্তা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে। নির্ধারণ করে ‘ম্যাংগো ক্যালেন্ডার’। অর্থাৎ কোন আম কোন তারিখে গাছ থেকে পাড়া শুরু করা যাবে, তা ঠিক করে দেওয়া হয়।

দেশে মৌসুমের শুরুর দিকে আম আসে মূলত সাতক্ষীরা থেকে। এবার এ জেলায় আম পাড়ার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ই মে থেকে। এ সময় গোপালভোগ, বোম্বাই, লতা ও গোবিন্দভোগ জাতের আম পাড়ার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নুরুল ইসলাম। তিনি জানান, ১৬ই মে থেকে হিমসাগর আম পাড়ার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। ২৪শে মে থেকে ল্যাংড়া এবং আগামী পহেলা জুন থেকে আম্রপালি জাতের আম পাড়ার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

নওগাঁর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ২৫শে মে থেকে গুটি বা স্থানীয় আম সংগ্রহের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। গোপালভোগ ৩০শে মের পর থেকে সংগ্রহের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ক্ষীরসাপাত ও হিমসাগর আগামী ৫ই জুন, নাগফজলি ৮ই জুন, ল্যাংড়া ও হাঁড়িভাঙা ১২ই জুন, ফজলি ২২শে জুন, আম্রপালি ২৫শে জুন, আশ্বিনা ও বারি আগামী ৪ই জুলাই এবং গৌড়মতি ১০ই জুলাই থেকে পাড়ার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, ২০শে মের মধ্যে গোপালভোগ, তার ৭ দিন পর ক্ষীরসাপাত, জুনের শুরুতে ফজলি এবং জুনের মাঝামাঝি আম্রপালি পাড়া যেতে পারে।

রাজশাহীর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর শিগগিরি আম সংগ্রহের সময় নির্ধারণ করবে। ২০ বা ২১শে মে থেকে গোপালভোগ জাতের আম পাড়ার সময় নির্ধারণ করা হতে পারে।