সীমান্তে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ জড়ো হওয়ার ঘটনা আওয়ামী লীগের একটি সাজানো নাটক ছিল বলে উল্লেখ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ১৫ আগস্ট মাঠে নেমে সহিংসতা করে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে তারা যে পরিকল্পনা করছে রাজপথে থেকে সেটা প্রতিহত করা ।
বুধবার সকাল ১১ টার দিকে নীলফামারীর সৈয়দপুর সাংগঠনিক জেলা বিএনপির কার্যালয়ে এক কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি আরও বলেন, এখন সময় সম্প্রীতির সোনার বাংলাদেশ গড়ার। দেশ নিয়ে এখনো গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। ছাত্র-জনতার ওপর বর্বর হামলা চালানো সেই পলাতক আসামিরা দেশে অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টির অপচেষ্টায় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের ওপর ভর করেছে। এ অবস্থায় এখন হিন্দু সম্প্রদায়ের জান-মাল রক্ষার দায়িত্ব বিএনপির নেতাকর্মীদের। দেখিয়ে দিতে হবে আমরা সম্প্রীতির বাংলাদেশে বিশ্বাসী। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই বিএনপির কাছে নিরাপদ।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, দলে কোনো মতভেদ, দলাদলির স্থান নেই। সব নেতাকর্মীকে এক প্লাটফর্মে এসে বাংলাদেশ গড়তে হবে। যেখানে উচ্ছৃঙ্খলা দেখবেন, রুখে দাঁড়াবেন। মনে রাখবেন, এখন আপনাদের কঠিন সময়। এসময় উতরে যেতে না পারলে আবার অন্ধকারে তলিয়ে যেতে হবে। চক্রান্তকারীরা চক্রান্ত অব্যাহত রেখেছে। জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে সেসব চক্রান্ত নস্যাৎ করে দিতে হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী সরকার খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলায় নির্যাতন করেছে বছরের পর বছর। দলের কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে আটক, গুম ও মামলা দিয়েছে। কিন্তু সত্য বিপ্লব আটকাতে পারেনি। আমাদের এখনো ওই ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে লড়তে হবে। আমরা শান্তিময় দেশ গড়ে তুলব।
মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের সময় সৈয়দপুর জেলা বিএনপি সভাপতি সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল গফুরর সরকার, সহসভাপতি শফিফুল ইসলাম জনি ও সুমিত কুমার আগারওয়ালা, সাধারণ সম্পাদক শাহিন আকতার, সহসাধারণ সম্পাদক এরশাদ হোসেন পাপ্পু, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন প্রামাণিক, যুবদল নেতা তারিক আজিজ, মহিলা দল নেত্রী রুপাসহ বিএনপির ও এর সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে দেশের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে ১৪ ও ১৫ আগস্ট মাঠে থাকার ঘোষণা দেন মির্জা ফখরুল।
সৈয়দপুরের কর্মী সভায় বক্তব্য দেওয়ার পর রংপুরে নিহত বিশ্ববদ্যালয় শিক্ষার্থী আবু সাঈদের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন।