দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে ধান উৎপাদন বৃদ্ধির প্রথম পদক্ষেপ বঙ্গবন্ধুই নিয়েছিলেন, সেই ধারা অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ (বৃহস্পতিবার)  সকালে গাজীপুরে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সুবর্নজয়ন্তী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

পঁচাত্তুরের পর যারাই ক্ষমতায় এসেছে তারা চায়নি বাংলাদেশ নিজের পায়ে দাঁড়াক। সেজন্য তারা কৃষিকে কোন গুরুত্ব দেয়নি। আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর কৃষির গবেষণার উপর জোর দিয়েছে, যার ফল এখন দেশের মানুষ সুফল পাচ্ছে। পাশাপাশি কৃষি যান্ত্রিকিকরণের উপরও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

এসময় তিনি দেশের যুব সমাজকে আরো বেশি কৃষি কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। এর আগে তিনি ‘বঙ্গবন্ধু-পিয়েরে ট্রুডো কৃষি প্রযুক্তি কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনের পর বঙ্গবন্ধু-পিয়েরে ট্রুডো কৃষি প্রযুক্তি কেন্দ্রের ইনোভেশনস পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।

কৃষিতে বঙ্গবন্ধুর অবদান উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন। দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাবেন, বাংলাদেশের মানুষ উন্নত জীবন পাবে এটাই ছিল তার জীবনের লক্ষ্য। শোষিত বঞ্চিত মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন তিনি। সোনার বাংলা গড়ে তোলার জন্য তিনি পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। আমাদের বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। আমাদের অর্থনীতি কৃষির ওপর নির্ভরশীল।

কৃষকদের সুবিধার জন্য তিনি ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মাফ করে দেন। পাকিস্তান আমলে দেওয়া ১০ লাখ সার্টিফিকেট মামলা থেকে কৃষকদের মুক্ত করে দেন। ভূমিহীনদের মাঝে খাস জমি বিতরণ করা শুরু করেন, গৃহহীনদের জন্য ঘরবাড়ি তৈরি করা শুরু করেন। বাজেটে কৃষিকে সব চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন।

বিদেশ থেকে সেচের ব্যবস্থা করার জন্য যন্ত্রপাতি ক্রয় করা শুরু করেন। কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণ করার পরিকল্পনাও তিনি হাতে নেন। কৃষি উৎপাদন যাতে বৃদ্ধি পায় তার জন্য উন্নতমানের বীজ উৎপাদন ও বীজ বিতরণ করা শুরু করেন। তিনি সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন এবং এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে সেটা বলেছিলেন।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের পাঁচটি প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কানাডার গ্লোবাল ইনস্টিটিউট অব ফুড সিকিউরিটির (সিইইউ) নির্বাহী পরিচালক ড. স্টেভিন ওয়েব, ফিলিপাইনের ইন্টারন্যাশনাল রাইস রিচার্স ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর জেনারেল ড. জেইন বালি। স্বাগত বক্তব্য দেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ওয়াহিদা আক্তার, কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার, ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক কৃষি বিজ্ঞানী ড. মো. শাহজাহান কবীর।

এ সময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।