নিরাপত্তা ও সরকারি অনুমতির অভাবে এবারের ৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় বাংলাদেশের কোনো প্রকাশনা সংস্থা অংশ নিতে পারছে না। সোমবার (১৩ জানুয়ারি) মেলার আয়োজক সংস্থা পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ড বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় খোলামেলাভাবেই জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে এবং সরকারি সবুজ সংকেত না থাকায় বাংলাদেশকে এবার আমন্ত্রণ জানানো সম্ভব হয়নি।

তিনি জানান, “ভবিষ্যতে পরিস্থিতি ভালো হলে অংশগ্রহণের আশা রয়েছে। বাংলাদেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের জন্য পাঠকরা অপেক্ষা করেন, কিন্তু এবারের মেলায় তা সম্ভব হচ্ছে না।”

তিনি আরও বলেন, “সহজভাবে বলতে গেলে, একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা অনেকটা আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে সমুদ্রযাত্রায় বের হওয়ার মতো; পরিবেশ প্রতিকূল থাকলে এবং নিরাপত্তার সংকেত না থাকলে আয়োজকরা ঝুঁকি নিতে চান না, ঠিক যেমন বাংলাদেশের বর্তমান অস্থিরতার কারণে এবারের বইমেলায় তাদের অংশগ্রহণ সম্ভব হচ্ছে না।”

মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বছর বইমেলার ‘থিম কান্ট্রি’ আর্জেন্টিনা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত ও সে দেশের সাহিত্যিকদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে আর্জেন্টিনার গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্কের সূত্র ধরে এই থিম নির্বাচন করা হয়েছে।

আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে সল্টলেক প্রাঙ্গণে শুরু হতে যাওয়া এই মেলায় অংশ নিচ্ছে না বাংলাদেশের কোনো প্রকাশনা সংস্থা। এবারের মেলায় প্রায় ১০০০টির বেশি স্টল এবং ২০টি দেশ অংশগ্রহণ করছে। কিন্তু প্রতিবেশী বাংলাদেশের অনুপস্থিতি বইপ্রেমীদের জন্য বড় আক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

১৯৯৬ সাল থেকে দীর্ঘ তিন দশক ধরে নিয়মিত অংশগ্রহণ করেছিল বাংলাদেশ। ২০২৪ সালে বাংলাদেশের প্যাভিলিয়ন ‘সেরা প্যাভিলিয়ন’ হিসেবে সম্মান পেয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তা শঙ্কা এবং কৌশলগত বিবেচনার কারণে এবারও বাংলাদেশ অনুপস্থিত।