আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জাতীয় পার্টির (জাপা) সঙ্গে নির্বাচনের আসন ভাগাভাগির বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে আয়োজনে জাতীয় পার্টিসহ নির্বাচনমুখী দলগুলোর সাথে তাদের আলোচনা হয়েছে। নির্বাচনে জাতীয় পার্টি আলাদাভাবে অংশ নেবে বলেও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতীয় পার্টির সঙ্গে আমাদের আলোচনার মূল বিষয় ছিল নির্বাচনকে অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু করার জন্য নির্বাচনমুখী শক্তিদের নিয়ে আমরা সমন্বিতভাবে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে… গুপ্তহত্যা, নাশকতা ও নির্বাচনবিরোধী অপকর্মকে প্রতিহত করব।

তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির দল হিসেবে অনেক কথাই বলতে পারে। রাজনৈতিক দলের হিসেবে নিজেদের শক্তিমত্তা প্রদর্শন করতে তারা তো চাইবেই। বাস্তবে কী হবে সেটি পরে দেখা যাবে। চাইতে তো কোনো দোষ নেই, আশা বড় থাকাই ভালো। আসন ভাগাভাগির বিষয়টা আমি জানি না। আসন ভাগাভাগি হয়েছে এমন কোনো আলোচনাও হয়নি। আমরা রাজনৈতিক আলোচনা করেছি।

জাতীয় পার্টির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে সে সম্পর্কে জানাতে গিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা যেসব রাজনৈতিক দল আছে তাদের সাথে আমাদের সহযোগিতা, সম্পর্ক আরও জোরদারের তাগিদ অনুভব করছি। যে কারণে ১৪ দলের সাথে বৈঠক হয়েছে। জাতীয় পার্টির সাথে বসেছি। মূল বিষয় ছিল নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু করার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে গুপ্ত হামলা, গুপ্তহত্যা প্রতিহত করব ভোটারদের নিয়ে।’ জাতীয় পার্টির সঙ্গে বৈঠকে আসন বণ্টন প্রসঙ্গ আসেনি বলেও দাবি করেন তিনি।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নির্বাচনমুখী অংশগ্রহণকারী দল, এদের মধ্যে সমন্বয় থাকা দরকার, ঐক্য থাকা দরকার। নির্বাচনকে পিসফুল, ফ্রি ফেয়ার করার অঙ্গীকার আমাদের রয়েছে। এখানে লুকোচুরির কোনো ব্যাপার নেই। আমরা রাজনীতি করি, রাজনৈতিক আলোচনায় আমাদের হয়েছে।’

বুধবার রাতে সিরাজগঞ্জে মুরগির বাচ্চা বহনকারী একটি কাভার্ডভ্যান পোড়ানো হয়েছে। এতে কয়েক হাজার মুরগির বাচ্চা পুড়ে গেছে। সেই ঘটনা উল্লেখ করে এর জন্য বিএনপিকে দায়ী করে কাদের বলেন, ‘এখন মুরগির বাচ্চাও তাদের শত্রু। মুরগির বাচ্চাও তাদের টার্গেট। নাশকতা, গুপ্ত হামলার আজকের যে ভয়াবহ চিত্র, সেটা নতুন নতুন রেকর্ড স্থাপন করছে তারা।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘গতকাল পর্যন্ত পায় ৬০০ যানবাহন পোড়ানো হয়েছে। দশটি ট্রেনে আগুন দেওয়া হয়েছে। বিএনপির আন্দোলন-অগ্নিসন্ত্রাসে পুলিশ বাহিনী সদস্য, পরিবহন শ্রমিক, রাজনৈতিক কর্মীসহ কয়েকজন মারা যাওয়ার পাশাপাশি ২৫০ জন মানুষ মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে।’

বিএনপি নির্বাচন বানচালের জন্য মরিয়া হয়ে উঠছে মন্তব্য করে কাদের বলেন, নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসবে ততই তারা আরও মরিয়া হয়ে উঠবে। তবে কোনোভাবেই নির্বাচন বানচাল করতে পারবে না বলেও জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

এ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, আ. ফ. ম. বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক ও উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান উপস্থিত ছিলেন।