পুরুষের দেহের রহস্যময় ওয়াই ক্রোমোজোম নিয়ে সুখবর দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, এই প্রথম মানবদেহের ওয়াই ক্রোমোজোমের সম্পূর্ণ ক্রম (সিকোয়েন্স) উন্মোচন করেছেন বিজ্ঞানীরা। পুরুষের বন্ধ্যাত্ব কাটাতে এই গবেষণা দারুণ কাজে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
একজন মানুষের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া ক্রোমোজম থাকে। এর মধ্যে এক জোড়া থাকে সেক্স ক্রোমোজোম। এই একজোড়ার মধ্যে পুরুষের থাকে একটি ওয়াই ও একটি এক্স ক্রোমোজোম। আর নারীর থাকে দুটি এক্স ক্রোমোজোম। পিতামাতার মধ্যে সাধারণত পিতার ক্রোমোজমই সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ করে দেয়। অর্থাৎ সন্তান ছেলে হবে কি মেয়ে হবে তা পিতার কাছ থেকে পাওয়া ক্রোমোজমের ওপর নির্ভর করে।
স¤প্রতি, গবেষকেরা প্রথমবারের মতো মানব ওয়াই ক্রোমোজোমের সম্পূর্ণ ক্রম উন্মোচন করেছেন। ওয়াই ক্রোমোজমের রহস্যভেদ সম্পর্কিত বিজ্ঞানীদের এ গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে বিজ্ঞান ভিত্তিক সাময়িকী নেচার জার্নাল। এর আগে ২০২০ সালে এক্স ক্রোমোজোমের সম্পূর্ণ ক্রমটি প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু মানব জিনোমের ওয়াই ক্রোমোজোমের ক্রম অজানাই ছিল।
ওয়াই ক্রোমোজোমের জিনগুলো শুক্রাণু উৎপাদনসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রজনন কাজ পরিচালনা করতে সহযোগিতা করে। এমনকি ক্যানসারের ঝুঁকি এবং তীব্রতার সাথেও এই ক্রোমোজম জড়িত। কিন্তু এর গঠন জটিল ও ব্যতিক্রম হওয়ার কারণে এই ক্রোমোজোমটির রহস্য ভেদ করা কঠিন বলে মনে করা হতো।
গবেষকদের মতে, ওয়াই ক্রোমোজোম মানব জিনোমের সবচেয়ে ছোট এবং দ্রুত ক্রমবর্ধমান ক্রোমোজোম। কিন্তু এর ক্রম না জানার কারণে ঐতিহ্যগতভাবে মানব রোগের অনেক গবেষণা থেকে এতদিন বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে এবার ওয়াই ক্রোমোজোমের পূর্ণাঙ্গ পাঠোদ্ধারের ফলে প্রজনন সম্পর্কিত গবেষণাসহ এর ব্যবহারিক প্রয়োগ সম্ভব হবে বলে দাবি করছেন বিজ্ঞানীরা।