ফরিদপুরের কানাইপুরে বাস ও পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও অনেকে। মঙ্গলবার সকালে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের কানাইপুরে অ্যাবলুম ক্যাফেটেরিয়ার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের একই পরিবারের ৪ সদস্যসহ ১৩ জনের মধ্যে  বেশিরভাগই নারী ও শিশু। নিহতরা সবাই পিকআপের যাত্রী।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে ঝিনাইদহ যাচ্ছিল উত্তরা ইউনিক পরিবহনের একটি বাস। অপরদিকে ১৫ জন যাত্রী নিয়ে আলফাডাঙ্গা থেকে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ত্রাণের টিন আনতে যাচ্ছিল একটি পিকআপ ভ্যান। ফরিদুপর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের তেঁতুলতলায় বাসটির সাথে পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষ হয়। এসময় দুটি গাড়িই দুমড়েমুচড়ে যায়।

ঘটনাস্থলে নিহত হয় পিকআপে থাকা ১১ যাত্রী। আহত অবস্থায় ছয়জনকে উদ্ধার করে নেওয়া হয় ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে মারা যায় আরও দু’জন। নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে পুলিশ। এখনও পর্যন্তকাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন করিমপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাউদ্দিন চৌধুরী।

ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের অতিরিক্ত পরিচালক সুভাষ বারুই জানান, সাতটা ৪৫ মিনিটে দুর্ঘটনা ঘটার পরপরই ফোনে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা উদ্ধার কাজে অংশ নেই। এ সময় বাস পিকআপ সংঘর্ষের ঘটনায় পিকআপের আহত চারজনকে দ্রুত ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং ১১ জন মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজে অংশ নেয় ফরিদপুর জেলা পুলিশ। পুলিশ সুপার মোরশেদ আলম বলেন, উদ্ধারকাজ শেষে বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান তালুকদার জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনায় নিহতদের পাঁচ লক্ষ টাকা এবং আহতদের তিন লক্ষ টাকা পেতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদেরকে জেলা প্রশাসন বরাবর আবেদন করতে বলা হয়েছে।