সাবেক মন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায়কে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার জাপার যুগ্ম-দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের দলীয় গঠনতন্ত্রে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে কাজী ফিরোজ রশিদ ও সুনীল শুভ রায়কে পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও প্রেসিডিয়াম সদস্য পদসহ দলীয় সব পদ-পদবি থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। যা ইতোমধ্যে কার্যকর করা হয়েছে।
কাজী ফিরোজ রশিদ দলের প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মন্ত্রিসভায় উপমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ঢাকা-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য।
এবারের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ওই আসনেই দলের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তবে আওয়ামী লীগ ঢাকা-৬-এ জাপাকে ছাড় দেয়নি বলে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন ফিরোজ রশীদ।
আর সুনীল শুভ রায় প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রেস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেছেন।
নানা নাটকীয়তার পর শেষ মুহূর্তে এবারের নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দেয় জাতীয় পার্টি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে দেন-দরবারের পর দলটি ২৬টি আসনে ছাড় পায়। এছাড়া ২৮৭টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা দেয় জাপা। তবে নির্বাচনের আগেই দলের ভঙ্গুর অবস্থার চিত্র সামনে আসতে থাকে। একে একে প্রার্থীরা ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।
ভোটের ফলাফলে ভরাডুবি হয়েছে জাতীয় পার্টির। দলটি এবারের নির্বাচনে মাত্র ১১টি আসন পেয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর সংসদে এত অল্পসংখ্যক আসন এর আগে কখনো পায়নি জাপা। এমনকি দলের দুর্গখ্যাত বৃহত্তর রংপুরেও প্রার্থীরা অনেকেই জামানত হারিয়েছেন।
দলের এই ভরাডুবির জন্য নেতাকর্মীদের অনেকেই চেয়ারম্যান জিএম কাদের এবং মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুকে দায়ী করছেন। নির্বাচনের পর জাপা চেয়ারম্যানের বনানীর কার্যালয়ে বিক্ষোভও করেছেন নেতাকর্মীরা। তারা চেয়ারম্যান ও মহাসচিবকে পদত্যাগের আলটিমেটাম দিয়েছেন।
বিবৃতিতে হেভিওয়েট এই দুই নেতাকে বহিষ্কারের কারণ জানায়নি জাতীয় পার্টি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, দলের নেতাকর্মীদের বিক্ষোভের পেছনে এই দুই নেতার হাত ইন্ধন পেয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে দল।