শরীরের গুরুত্বপূর্ণ এক অঙ্গ ফুসফুস। কোনো কারণে ফুসফুসের কার্যকারিতা নষ্ট হলে শুরু হয় শ্বাসকষ্ট। আর শ্বাস নিতে না পারলে রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণও কমতে শুরু করে। এর থেকে অনেকেই মৃত্যুবরণও করতে পারেন। ফুসফুসের কার্যকারিতা নষ্ট হওয়ার পেছনে একাধিক রোগ দায়ী, সেটা হলো ক্যান্সার। আর বিশ্বব্যাপী নারী-পুরুষ সকলেরই ক্যানসারের মৃত্যুর বড় কারণ হলো ফুসফুসের ক্যান্সার।

ফুসফুসের ক্যানসারের কারণ কি?

ক্যানসার হওয়ার জন্য সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে আছে- তামাক, ধূমপান, বায়ুদূষণ, বিকিরণের সংস্পর্শ, কয়লা ও বেরিলিয়ামের মতো রাসায়নিকের সংস্পর্শ কিংবা ক্যানসারের পারিবারিক ইতিহাস।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, তিনটি কারণে ধীরে ধীরে ফুসফুসকে নষ্ট করে দেয় ও ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়-

তামাক ব্যবহার: তামাক ব্যবহার ফুসফুসের ক্যান্সারের প্রধান কারণ। প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষের ফুসফুসের ক্যান্সার হয় তামাক ব্যবহারের কারণে। সিগারেট, সিগার, পাইপ, হুক্কা, ইলেকট্রনিক সিগারেট ও তামাক খাওয়া ফুসফুসের জন্য বিপজ্জনক।

অধূমপায়ীদের তুলনায় ধূমপায়ীদের মধ্যে ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকি প্রায় ২০ গুণ বেশি। তাই ফুসফুসের ক্যান্সার প্রতিরোধ বা ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানোর সর্বোত্তম উপায় হলো অবিলম্বে ধূমপান বন্ধ করা।

পরোক্ষ ধূমপান: সেকেন্ডহ্যান্ড ধোঁয়াও ক্ষতিকারক। এতেও সিগারেটের মতো একই ধরনের বিষাক্ত রাসায়নিক থাকে। যা ফুসফুসের কোষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে ও ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ধূমপান বন্ধ করার মাধ্যমে আপনি ও আপনার পরিবার সবাই সুস্থ থাকবেন।

বিকিরণ ও রাসায়নিক: পরিবেশ দূষণের কারণে অনেকেই দৈনিক নানা ধরনের বিকিরণ ও রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসেন। বিশেষ করে রেডন ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই এ ধরনের বিকিরণ এড়ানোর চেষ্টা করুন।

এয়াড়াও অ্যাসবেস্টস, কয়লা, সিলিকা, বেরিলিয়াম, আর্সেনিক, নিকেল ইত্যাদির মতো ক্ষতিকারক রাসায়নিকের দীর্ঘায়িত এক্সপোজার এড়িয়ে চলুন।

ফুসফুসের কন্সার প্রতিরোধের উপায়:

ফুসফুসের ক্যান্সার স্ক্রিনিং: নিয়মিত ফুসফুসের চেকআপ করার মাধ্যমে আপনি প্রাথমিক অবস্থায়ই ক্যানসার শনাক্ত করতে পারবেন ও সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারবেন।

আপনি যদি একজন ধূমপায়ী হন, আপনার বয়স ৫০-৮০ বছরের মধ্যে হয় ও বিগত ২০ বছর ধরে প্রতিদিন গড়ে ১ প্যাকেট সিগারেট গ্রহণ করেন তাহলে নিয়মিত ফুসফুসের স্ক্রিনিং করা জরুরি বলে মনে করেন চিকিৎসকরা।

এছাড়া আপনি যদি এখনো ধূমপান করেন কিংবা ১৫ বছর আগে ধূমপান ছেড়ে দিয়েও থাকেন তাহলেও ফুসফুসের পরীক্ষা করুন।

খাদ্যাভ্যাস ও শরীরচর্চা: ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকি এড়াতে খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের ফল, সবজি ও গোটা শস্য অন্তর্ভুক্ত করুন। এগুলো ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর।

একই সঙ্গে প্রতিদিন ফুসফুসের ব্যায়াম ও শরীরচর্চা করুন। তাহলে ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমবে।