রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলায় দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অসুস্থ অবস্থায় গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসাধীন আছেন আরও একজন। এছাড়া অন্তত ৩৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ৩নং পন্টুনে ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’ নামের বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়। তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় জনগণ উদ্ধার তৎপরতা শুরু করছে।

মারা যাওয়া দুই নারীর একজন হলেন রাজবাড়ীর ভবানীপুর এলাকার রেহেনা বেগম (৬০)। অপর জন মর্জিনা বেগম (৫৫)। তবে মর্জিনা বেগমের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি। চিকিৎসাধীন আছেন নুসরাত (২৯) নামের এক নারী। তিনি পেশায় একজন চিকিৎসক।
প্রত্যক্ষদর্শী, নৌ পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাসটিতে চালক ও সহকারীসহ প্রায় ৪৫ জন যাত্রী ছিলেন। ফেরিতে ওঠার মুহূর্তে বাসটি আকস্মিকভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর নদীতে তলিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই প্রাণ বাঁচাতে ১১ জন যাত্রী কোনোমতে সাঁতরে পাড়ে উঠতে সক্ষম হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিখোঁজ বাকি যাত্রীদের উদ্ধারে ব্যাপক তল্লাশি শুরু করে।

উদ্ধার অভিযানে সহায়তার জন্য রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাট থেকেও অভিজ্ঞ ডুবুরি দল এসে যোগ দিয়েছে। রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা জানিয়েছেন, তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উদ্ধার কাজ চালাচ্ছেন। তবে ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও প্রাথমিক উদ্ধার কাজ শুরু করতে বিলম্ব হওয়ায় নিখোঁজদের স্বজনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং উদ্ধার কাজ নির্বিঘ্ন করতে বর্তমানে জেলা পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস একযোগে কাজ করছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. মারুফ হোসেন বলেন, দুর্ঘটনার পর তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এর মধ্যে দুজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। অন্যজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সৌহার্দ পরিবহণের দৌলতদিয়া ঘাট প্রতিনিধি মনির হোসেন জানান, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকাগামী বাসটিতে ৫০/৫২ জন যাত্রী ছিল। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বাসটি দৌলতদিয়ার ৩ নং ফেরিঘাটে পৌঁছালে ১০-১২ জন যাত্রী বাস থেকে নিচে নেমে যান। অবশিষ্ট যাত্রীদের নিয়ে বাসটি ঢালু অ্যাপ্রোচ সড়ক দিয়ে ফেরিতে উঠতে যাচ্ছিল। এ সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে বাসটি সরাসরি পদ্মা নদীর গভীর জলে পড়ে তলিয়ে যায়। বাসটিতে অধিকাংশই পরিবারের সঙ্গে ঈদ আনন্দ শেষে কর্মস্থলে ফিরছিলেন।












